তিলোত্তমার বিচার অধরা! সিবিআই আধিকারিকের বিরুদ্ধে চরম গাফিলতির অভিযোগ তুললেন মা রত্না দেবনাথ

কলকাতা হাইকোর্টের সাম্প্রতিক এক গুরুত্বপূর্ণ রায়ের পর সিবিআই (CBI) আধিকারিক সীমা আহুজার বিরুদ্ধে তদন্তে গুরুতর গাফিলতির জোরালো অভিযোগ তুললেন মৃতার মা রত্না দেবনাথ। প্রকাশ্য ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে, মেয়ের প্রকৃত বিচার না পাওয়া পর্যন্ত তিনি কোনোভাবেই সন্তুষ্ট নন। সিবিআই-এর তদন্ত প্রক্রিয়ায় এই গাফিলতির জন্য অবিলম্বে ওই আধিকারিকের বিরুদ্ধে একটি নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্ত হওয়া প্রয়োজন বলে দাবি তুলেছেন তিনি।

সিবিআই আধিকারিকের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
রত্না দেবনাথ জানান, আদালতের দেওয়া রায়ের সমস্ত আইনি খুঁটিনাটি তাঁর পুরোপুরি জানা না থাকলেও, এতদিন ধরে সিবিআই যেভাবে তদন্ত প্রক্রিয়া চালিয়েছে তাতে তিনি ও তাঁর পরিবার বিন্দুমাত্র সন্তুষ্ট নন। তদন্তকারী আধিকারিক সীমা আহুজার ভূমিকা ও কর্মপদ্ধতি নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলে তিনি অবিলম্বে ওই আধিকারিকের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।

অন্যদিকে, মৃতার মায়ের এই ক্ষোভ ও বিস্ফোরক বক্তব্যকে সম্পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন বারাকপুরের বিধায়ক কৌস্তভ বাগচী। যদিও তিনি ওই সিবিআই আধিকারিককে নিয়ে সরাসরি কোনো ব্যক্তিগত মন্তব্য করতে চাননি, তবে রত্না দেবনাথের তোলা প্রতিটি দাবিকে সম্পূর্ণ ন্যায়সঙ্গত বলেই মনে করেন তিনি। মেয়ের বিচারের দাবিতে পরিবারের এই দীর্ঘ ও কঠিন লড়াইয়ে শুরু থেকেই তাঁরা পাশে আছেন এবং আগামী দিনেও থাকবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন বিধায়ক।

তিলোত্তমার সৎকার মামলা সিবিআইয়ের হাতে
এদিকে, তিলোত্তমার সৎকার সংক্রান্ত মামলাটি অবশেষে রাজ্য পুলিশের হাত থেকে সম্পূর্ণ সরিয়ে নিয়ে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআইকে হস্তান্তর করেছে কলকাতা হাইকোর্ট। কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি শম্পা সরকার ও বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, এই ঘটনায় পুলিশের দেওয়া যুক্তিগুলির কোনো আইনি ভিত্তি বা যৌক্তিকতা নেই। হাইকোর্ট আগে বিশেষ তদন্তকারী দল বা ‘সিট’ (SIT) তৈরি করে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া সত্ত্বেও পুলিশ নির্দিষ্ট দায়িত্ব পালন করেনি। আর সেই কারণেই এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তদন্তভারও সিবিআইয়ের হাতে তুলে দেওয়া হলো। একইসঙ্গে খড়দহ থানার সামগ্রিক নিষ্ক্রিয়তা ও ভূমিকার বিরুদ্ধে ব্যাপক ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিচারপতি শম্পা সরকার। সবমিলিয়ে হাইকোর্টের এই কড়া পদক্ষেপের পর গোটা মামলাটি ঘিরে নতুন করে রাজ্য রাজনীতি ও আইনি মহলে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

Saheli Saha
  • Saheli Saha

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *