রামমন্দিরের সুরক্ষায় বিরাট কড়াকড়ি! কর্মরত সমস্ত কর্মচারীর পুলিশি ভেরিফিকেশন ও তথ্য যাচাইয়ের নির্দেশ ট্রাস্টের

নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার লক্ষ্যে উত্তরপ্রদেশের অযোধ্যাস্থ বিশ্ববিখ্যাত রামমন্দিরে কর্মরত সমস্ত কর্মীর বিশদ তথ্য যাচাই করার ঐতিহাসিক ও কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ‘শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্ট’। নির্ভরযোগ্য সূত্রের খবর অনুযায়ী, এই বিশেষ প্রক্রিয়ার মধ্যে কর্মীদের বিস্তারিত পুলিশি যাচাইকরণ (Police Verification), চারিত্রিক শংসাপত্র (Character Certificate) সংগ্রহ এবং তাঁদের পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনদের সমস্ত তথ্য জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
মন্দির চত্বরে কড়া নিরাপত্তা ও তথ্য সংগ্রহ
শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্টের তরফে জানানো হয়েছে যে, মন্দির চত্বরের সুরক্ষায় বিন্দুমাত্র ঢিলেঢেলে ভাব রাখতে নারাজ কর্তৃপক্ষ। সেই কারণেই মন্দিরের সঙ্গে যুক্ত প্রতিটি কর্মীর ব্যক্তিগত তথ্যের পাশাপাশি তাঁদের পরিবারের সদস্যদের ব্যাকগ্রাউন্ড বা অতীত ইতিহাসও পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশের দেওয়া নির্দিষ্ট ক্যারেক্টার সার্টিফিকেট সংগ্রহ এবং তা ট্রাস্টে জমা দেওয়া এখন থেকে প্রত্যেক কর্মীর জন্য সুনিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রণামী চুরি ও বিশাল চার্জশিটের প্রেক্ষাপট
মূলত চলতি বছরের জুন মাসে রামমন্দিরে ভক্তদের দেওয়া দানপত্র বা প্রণামী চুরির একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পরই মন্দির প্রশাসন নড়েচড়ে বসে। ওই ঘটনার পরেই মন্দিরের সামগ্রিক নিরাপত্তা এবং অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে আরও কঠোর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় মোট আটজন দুষ্কৃতীকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। বর্তমানে অভিযুক্তরা সকলেই জেল হেফাজতে রয়েছেন এবং গত সপ্তাহেই এই সংক্রান্ত মামলায় প্রায় ৭০ হাজার পাতার একটি বিশাল অভিযোগপত্র বা চার্জশিট আদালতে দাখিল করা হয়েছে। ওই ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করতেই ট্রাস্টের এই নতুন পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রশাসনিক কাঠামোয় বড় রদবদল
মন্দিরের নবনিযুক্ত প্রধান নির্বাহী আধিকারিক (CEO) তথা অবসরপ্রাপ্ত এয়ার মার্শাল জিতেন্দ্র মিশ্রের প্রত্যক্ষ নেতৃত্বে এই কর্মী যাচাই-বাছাইয়ের সম্পূর্ণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। উল্লেখ্য, তিনি গত মাসেই মন্দির প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ এই দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। তাঁর আসার পরেই মন্দির প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের কাঠামোতেও একাধিক বড় ধরনের রদবদল করা হয়েছে। এর অঙ্গ হিসেবেই প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাই এবং ট্রাস্টের অন্যতম সদস্য অনিল মিশ্র ও গোপাল রাওকে তাঁদের পূর্ব নির্ধারিত দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
ট্রাস্টের বক্তব্য ও সার্বিক পরিস্থিতি
এই বিষয়ে ট্রাস্টের সদস্য দীনেন্দ্র দাস বৃহস্পতিবার সংবাদমাধ্যমে স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, ট্রাস্টের নেওয়া প্রতিটি সিদ্ধান্ত মন্দিরের সুরক্ষা ও শৃঙ্খলার স্বার্থে এবং তা সংশ্লিষ্ট সকলের কাছেই অত্যন্ত গ্রহণযোগ্য হবে। তিনি আরও জানান, মন্দিরে প্রতিদিনের পুজো-অর্চনা সম্পূর্ণ সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হচ্ছে, ভক্তদের দেওয়া দান-অনুদান অত্যন্ত স্বচ্ছতার সঙ্গে গ্রহণ করা হচ্ছে এবং প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক ভক্তের সমাগম ঘটে নির্বিঘ্নে দর্শন ও আরতি সম্পন্ন করছেন। মন্দিরের সামগ্রিক সংস্কার ও সুরক্ষার পাশাপাশি আগত ভক্তদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির দিকেও বিশেষ নজর দিচ্ছে বর্তমান ট্রাস্ট।