জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল দিল্লি! যন্তর মন্তরে আন্দোলন ঠেকাতে ১১টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ করল পুলিশ

এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া ঘিরে লাগাতার অনিয়মের অভিযোগে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আজ, শুক্রবার গান্ধী জয়ন্তীতে রাজধানী দিল্লিতে শুরু হচ্ছে এক বিরাট প্রতিবাদ আন্দোলন। ছাত্র সংগঠন ‘অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন’ বা আইসা (AISA), রাজ্যসভার সাংসদ মনোজ ঝা এবং বিশিষ্ট সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণের যৌথ ডাকে আজ বেলা ১১টায় যন্তর মন্তরে এই জমায়েত ও বিক্ষোভ প্রদর্শনের কর্মসূচি নির্ধারিত রয়েছে।

দিল্লিতে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ও মেট্রো চলাচল বন্ধ
এই প্রস্তাবিত আন্দোলন মোকাবিলায় আজ সকাল থেকেই চরম তৎপরতা শুরু করেছে দিল্লি পুলিশ। জনসমুদ্রের জল্পনা এড়াতে এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সকাল ৭টা থেকেই রাজধানীর ১১টি গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো স্টেশন সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ট্রেনগুলি ওই স্টেশনগুলিতে দাঁড় না করায় যাত্রীদের প্রবেশ ও প্রস্থান সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বন্ধ থাকা এই মেট্রো স্টেশনগুলির তালিকার মধ্যে রয়েছে রাজীব চক, কেন্দ্রীয় সচিবালয়, প্যাটেল চক, জনপথ এবং মান্ডি হাউসের মতো অতি ব্যস্ত এলাকাগুলি।

মেট্রো চলাচলে বিধিনিষেধের পাশাপাশি দিল্লির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল রাস্তায় বিপুল পরিমাণে পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। একাধিক প্রধান রাস্তায় বসানো হয়েছে লোহার ব্যারিকেড। এর জেরে রাজধানীর সামগ্রিক যান চলাচল ব্যবস্থাতেও ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়েছে।

অনুমতি না থাকলেও আন্দোলনের প্রস্তুতি
প্রশাসনের তরফে যন্তর মন্তরে এই জমায়েতের কোনো আনুষ্ঠানিক অনুমতি দেওয়া হয়নি। তা সত্ত্বেও আয়োজক ও বিক্ষোভকারীদের বড় অংশ জ্ঞানেশের পদত্যাগের দাবিতে পথে নামতে পারেন বলেই আশঙ্কা করছে প্রশাসন। সেই কারণেই কোনো রকম ঝুঁকি না নিয়ে দিল্লি পুলিশ শহরের গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা একেবারে কঠোর করে তুলেছে।

উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, দেশের গণতন্ত্রকে পুনরুদ্ধার করতেই এই আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, ভোটদানের অধিকারই দেশবাসীর প্রধান গণতান্ত্রিক অধিকার, অথচ এসআইআর (SIR)-এর নামে সেই মৌলিক অধিকারকেই ধীরে ধীরে কেড়ে নেওয়া হচ্ছে।

আসন্ন আগামী সপ্তাহ থেকে কংগ্রেসসহ দেশের অন্যান্য বিরোধী দলগুলিও এসআইআর ইস্যুতে আরও জোরালোভাবে আন্দোলনে নামার পূর্ণ প্রস্তুতি নিচ্ছিল। তার ঠিক আগেই একটি ছাত্র সংগঠন ও বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের এই প্রস্তাবিত জমায়েত প্রতিহত করতে পুলিশের এই অতি-সক্রিয়তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও পুলিশ সূত্রে খবর, এই বিক্ষোভে বড়জোর তিন থেকে চার হাজার মানুষের জমায়েত হতে পারে, তবুও সাম্প্রতিক বিভিন্ন আন্দোলনের অভিজ্ঞতাকে মাথায় রেখে বিন্দুমাত্র ছাড় দিতে নারাজ দিল্লি পুলিশ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *