ওজন কমানো থেকে এনার্জি বুস্ট! সকালের কাপে ক্যাফেইনের সঙ্গে প্রোটিন মিশিয়ে খাওয়ার এই ফ্যাশন কতটা স্বাস্থ্যকর?

সকালের ঘুমঘুম ভাব কাটাতে এক কাপ গরম বা ঠান্ডা কফি অনেকেরই নিত্যসঙ্গী। কিন্তু বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ার কল্যাণে কফিতে দুধ বা চিনির বদলে প্রোটিন পাউডার বা প্রোটিন শেক মেশানোর এক নতুন ট্রেন্ড দারুণ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘প্রফি’ (Proffee)—অর্থাৎ প্রোটিন এবং কফির মেলবন্ধন। ব্যস্ত জীবনযাত্রায় দ্রুত প্রোটিন পাওয়ার উপায় হিসেবে কিংবা ওজন কমানোর লক্ষ্যে অনেকেই এখন এই পানীয়র দিকে ঝুঁকছেন।
‘প্রফি’ ট্রেন্ডের নেপথ্যে কী কারণ?
আইসড কফির সঙ্গে প্রোটিন পাউডার বা রেডি-টু-ড্রিঙ্ক প্রোটিন শেক মিশিয়ে খাওয়ার চলই এখন সবচেয়ে বেশি। কারণ গরম কফিতে সরাসরি প্রোটিন দিলে অনেক সময় তা দলা পাকিয়ে যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ট্রেন্ডের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো একসঙ্গে ক্যাফেইন এবং প্রোটিনের জোগান পাওয়া। সকালে যাঁদের প্রোটিনযুক্ত খাবার খাওয়ার সময় হয় না, তাঁদের জন্য এটি বেশ সুবিধাজনক। এছাড়া প্রোটিন অনেকক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করায় বারবার স্ন্যাকস খাওয়ার প্রবণতাও কমে।
কতটা স্বাস্থ্যকর এই পানীয়? সতর্কতা কী?
বিশেষজ্ঞদের সাফ কথা, প্রফি কোনো ‘ম্যাজিক ওয়েট লস ড্রিঙ্ক’ নয়। অর্থাৎ, কফিতে প্রোটিন মেশালেই শরীরের অতিরিক্ত মেদ গলে যাবে, এমন কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। তাছাড়া বাজারেিক প্রোটিন পাউডার বা শেকে অনেক সময় অতিরিক্ত চিনি ও ক্যালোরি থাকে, যা উপকারের বদলে শরীরের ক্ষতি করতে পারে। অতিরিক্ত ক্যাফেইন যেমন ঘুমের সমস্যা, অস্থিরতা বা হৃদস্পন্দন বাড়িয়ে দিতে পারে, তেমনই কিডনির সমস্যা থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত প্রোটিন গ্রহণ মারাত্মক হতে পারে। তাই ফ্যাশনে মেতে ওঠার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।