হাইজ্যাক হওয়া বিমানের ভেতরে বন্দুক উঁচিয়ে দাঁড়িয়ে জঙ্গিরা! নিজের প্রাণের মায়া ত্যাগ করে কীভাবে ৩৬০ জনের জীবন বাঁচালেন সাহসী নীরজা?

১৯৮৬ সালের ৫ সেপ্টেম্বর। বিমান চলাচলের ইতিহাসে অন্যতম অন্ধকারতম এবং রক্তক্ষয়ী এক দিন। বোম্বে (বর্তমান মুম্বই) থেকে নিউ ইয়র্কগামী প্যান অ্যাম ফ্লাইট ৭৩ (Pan Am Flight 73) করাচি বিমান বন্দরে পৌঁছানোর পরেই চার সশস্ত্র জঙ্গি বিমানটি হাইজ্যাক করে। বিমানের ভেতরে তখন শত শত নিরপরাধ যাত্রী চরম আতঙ্ক আর মৃত্যুর মুখোমুখি। সেই চরম সংকটজনক পরিস্থিতিতেও একুশ শতকের তরুণী, বিমানবালিকা নীরজা ভানোট যে সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছিলেন, তা আজও বিশ্ববাসীর মনে শিহরণ জাগায়।

কীভাবে রক্ষা পেয়েছিলেন যাত্রীরা?

জঙ্গিরা বিমানে ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই আমেরিকান যাত্রীদের চিহ্নিত করতে শুরু করে এবং এক যাত্রীকে নির্মমভাবে হত্যা করে বিমান থেকে ফেলে দেয়। কিন্তু ফ্লাইট পার্সার হিসেবে কর্মরত নীরজা চরম ঠাণ্ডা মাথায় ও বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে কাজ করেন। জঙ্গিদের নজর এড়িয়ে তিনি বিমানের গোপন ইমার্জেন্সি দরজা খুলে দেন। এর ফলে পিছনের দরজা দিয়ে একে একে প্রায় ৩৬০ জন যাত্রী ও ক্রু সদস্য নিরাপদে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন।

সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ ও সম্মান

যাত্রীদের বাঁচাতে গিয়ে শেষের দিকে তিন নিষ্পাপ শিশুকে জঙ্গিদের বন্দুকের সামনে নিজের শরীর দিয়ে ঢেকে রেখেছিলেন নীরজা। ঠিক তখনই এক উগ্রপন্থী জঙ্গি অত্যন্ত কাছ থেকে তাঁকে গুলি করে। মাত্র ২৩ বছর বয়স পূর্ণ হওয়ার ঠিক দু’দিন আগে দেশের জন্য এবং মানবতার খাতিরে নিজের জীবন উৎসর্গ করেন তিনি। তাঁর এই অতুলনীয় সাহসিকতার স্বীকৃতিস্বরূপ ভারত সরকার তাঁকে দেশের সর্বোচ্চ শান্তিকালীন বীরত্ব পুরস্কার ‘অশোক চক্র’ (Ashoka Chakra) দিয়ে সম্মানিত করে। তিনিই ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ এবং প্রথম মহিলা প্রাপক যিনি এই সম্মান অর্জন করেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *