বাণিজ্যে তাক লাগাল উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেল! রেকর্ড গড়ে পণ্য পরিবহণে বিশাল মাইলফলক ছুঁল আলিপুরদুয়ার ও কাটিহার

উত্তর-পূর্ব ভারতের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সংযোগকে আরও শক্তিশালী করতে এক অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করল উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেল (Northeast Frontier Railway)। শুধু যাত্রী পরিষেবা নয়, দেশের দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল ও সীমানা পেরিয়ে পণ্য পরিবহণ বা ‘ফ্রেট লোডিং’-এর ক্ষেত্রে এবার সর্বকালীন রেকর্ড গড়ল এই রেলওয়ে জোন। নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রাকে ছাড়িয়ে গিয়ে সাম্প্রতিক আর্থিক বছরে উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেল মোট ১১.৪ মিলিয়ন টন পণ্য পরিবহণ করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৬ শতাংশ বেশি।
কোন কোন ডিভিশনের হাত ধরে এল এই সাফল্য?
রেল সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ভৌগোলিক ও বাণিজ্যিক দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আলিপুরদুয়ার এবং কাটিহার ডিভিশন এই সাফল্যে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করেছে। এর মধ্যে কাটিহার ডিভিশনের মাধ্যমে প্রায় ৩.৯৫ মিলিয়ন টন এবং কৌশলগতভাবে সীমান্তবর্তী আলিপুরদুয়ার ডিভিশনের মাধ্যমে প্রায় ২.২৫ মিলিয়ন টন বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী, চা, কৃষিজ পণ্য ও নির্মাণসামগ্রী সাফল্যের সঙ্গে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও আঞ্চলিক সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও গতিশীল করতে নিউ জলপাইগুড়ি (NJP) রেল স্টেশনের কন্টেইনার ডিপো বা স্থল বন্দর এক বিরাট ভূমিকা পালন করছে, যার ফলে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের লজিস্টিক খরচ ও সময় অনেকটাই সাশ্রয় হচ্ছে।
উত্তর-পূর্বের অন্য রাজ্যগুলিতেও পরিকাঠামোগত বিপ্লব
শুধু বাংলা বা আসাম নয়, উত্তর-পূর্বের অন্য রাজ্যগুলিতেও রেল যোগাযোগের ক্ষেত্রে একের পর এক ঐতিহাসিক ঘটনা ঘটছে। মেঘালয়ের মেন্ডিপাঠার রেল স্টেশন থেকে প্রথমবারের মতো কয়লাবোঝাই ট্রেন চলাচলের মাধ্যমে নতুন যুগের সূচনা হয়েছে। পাশাপাশি, নাগাল্যান্ডের মোলভম রেল স্টেশনে পণ্য ওঠানামা শুরু হওয়ায় তা ডিমাপুর ও শোখুভির পাশাপাশি রাজ্যের তৃতীয় প্রধান কার্গো টার্মিনাল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। পণ্য পরিবহণকে আরও আধুনিক ও ব্যবসাবান্ধব করতে রঙ্গিয়া ও লামডিং ডিভিশনে নতুন ‘গতি শক্তি কার্গো টার্মিনাল’ গড়ে তোলা হয়েছে। সার্বিক এই পরিকাঠামোগত উন্নয়নের ফলে আগামী দিনে উত্তর-পূর্ব ভারতের বাণিজ্যে এক বিরাট বিপ্লব আসবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।