ককপিটেই রক্তাক্ত সংঘর্ষ! ইচ্ছাকৃতভাবে যাত্রীবাহী বিমান আছড়ে ফেলার এই ইতিহাসগুলো জানলে বুক কেঁপে উঠবে

ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানে সতীর্থর কোপ এবং ভারতীয় পাইলট স্মিত মচ্ছরের সাহসিকতায় এক বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হলেও, এই ঘটনা বিশ্বজুড়ে বিমান নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এক পুরনো ও ভীতিকর স্মৃতিকে উসকে দিয়েছে। মাঝআকাশে পাইলটদের আত্মঘাতী মানসিকতা কিংবা ককপিটের ভেতরে অনভিপ্রেত হিংসাত্মক ঘটনার জেরে যাত্রীসমেত বিমান ভেঙে পড়ার নজির অতীতেও একাধিকবার বিশ্বকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল।
অতীতের ভয়াবহ কিছু বিমান দুর্ঘটনার ইতিহাস
-
ফেডএক্স ফ্লাইট ৭০৫ (১৯৯৪): ১৯৯৪ সালের ১৯ ডিসেম্বর ফেডএক্স কার্গো বিমানের অফ-ডিউটি পাইলট অবার্ন ক্যালওয়ে চাকরি হারানোর ভয়ে এবং পরিবারের জন্য বিমার অর্থ নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে বিমানে হাতুড়ি ও ধারাল অস্ত্র নিয়ে হামলা চালান। তিনি ককপিটে ঢুকে তিন সহকর্মীর ওপর চড়াও হন। তা সত্ত্বেও ক্রু সদস্যদের চরম সাহসিকতায় ঘাতক পাইলটকে কাবু করে বিমানটি নিরাপদে মাটিতে নামানো সম্ভব হয়েছিল।
-
সিল্কএয়ার ফ্লাইট ১৮৫ (১৯৯৭): ১৯৯৭ সালের ১৯ ডিসেম্বর ইন্দোনেশিয়া থেকে সিঙ্গাপুর যাওয়ার পথে তীব্র দেনার দায়ে জর্জরিত এক পাইলট কো-পাইলটকে ককপিট থেকে বের করে দিয়ে ফ্লাইট রেকর্ডার বন্ধ করে দেন এবং তীব্র গতিতে বিমানটি নদীতে আছড়ে ফেলেন। এই দুর্ঘটনায় বিমানে থাকা ১০৪ জন যাত্রীর সবাই প্রাণ হারান। তদন্তে ইচ্ছাকৃতভাবে বিমান বিধ্বস্ত করার তত্ত্ব উঠে এলেও তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।
-
ইজিপ্টএয়ার ফ্লাইট ৯৯০ (১৯৯৯): ১৯৯৯ সালের ৩১ অক্টোবর নিউ ইয়র্ক থেকে কায়রো যাওয়ার পথে আটলান্টিক মহাসাগরে আছড়ে পড়ে ইজিপ্টএয়ারের এই বিমানটি। ব্ল্যাকবক্সের রেকর্ডিং থেকে জানা যায়, কো-পাইলট গামিল আল-বাতুতি ইচ্ছাকৃতভাবে অটোপাইলট মোড বন্ধ করে দিয়ে বিমানটি সোজা নিচের দিকে নামিয়ে দেন। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ২১৭ জন যাত্রীর মৃত্যু হয়।
-
জার্মানউইংস ফ্লাইট ৯৫২৫ (২০১৫): ২০১৫ সালের ২৪ মার্চ গভীর মানসিক অবসাদে ভোগা কো-পাইলট আন্দ্রিজ় লুবিৎজ় ক্যাপ্টেন শৌচাগারে যাওয়ার সুযোগে ককপিটের দরজা ভেতর থেকে আটকে দেন। শত চেষ্টা সত্ত্বেও দরজা ভাঙা যায়নি এবং শেষ পর্যন্ত আল্পস পর্বতমালায় বিমানটি আছড়ে পড়ে ১৫০ জনের প্রাণহানি ঘটে। এই ঘটনার পরেই আন্তর্জাতিক aviation মহলে ককপিটে সব সময় অন্তত দু’জন ব্যক্তির উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করার মতো কঠোর নিয়ম চালু করা হয়।
সাম্প্রতিক ফ্লাইদুবাই কাণ্ডের পর এই পুরনো আতঙ্কগুলি ফের নতুন করে ভাবাতে শুরু করেছে বিমান বিশেষজ্ঞ ও সাধারণ যাত্রীদের। মাঝআকাশে হাজার হাজার ফুট উঁচুতে ককপিটের নিরাপত্তা এবং পাইলটদের মানসিক স্বাস্থ্য ও স্ক্রিনিংয়ের বিষয়টি এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্নচিহ্নের মুখে এসে দাঁড়িয়েছে।