মাঝরাতে সার্কিট হাউজ থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার জের! সাংসদ মহুয়া মৈত্র মামলায় সরাসরি রাজ্যের জবাব তলব সুপ্রিম কোর্টের

কৃষ্ণনগর সার্কিট হাউজ থেকে মাঝরাতে সাংসদ মহুয়া মৈত্রকে জোর করে বের করে দেওয়ার অভিযোগ সংক্রান্ত মামলায় বড় পদক্ষেপ করল সুপ্রিম কোর্ট। বৃহস্পতিবার এই হাই-প্রোফাইল মামলার শুনানি ছিল শীর্ষ আদালতের বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি ভি মোহন-এর বেঞ্চে। শুনানি শেষে আদালত এই ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গ সরকার এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক জবাব তলব করেছে।

ঠিক কী ঘটেছিল সেই রাতে?

সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশন শেষে গত আগস্ট মাসে কৃষ্ণনগরের সার্কিট হাউজে এক রাত কাটানোর জন্য উঠেছিলেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। নিয়মমাফিক সেখানে থাকার অধিকার তাঁর থাকলেও, গভীর রাতে নদিয়া জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরা তাঁকে সেই ঘর খালি করার জন্য প্রবল চাপ সৃষ্টি করেন বলে অভিযোগ। মহুয়া মৈত্র সার্কিট হাউজ ছাড়তে অস্বীকার করায় ভবনের বাইরে তীব্র উত্তেজনা ছড়ায় এবং বিশাল জনসমাগম জমায়েত করে ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগান দিতে শুরু করে। চরম হেনস্থার মুখে পড়ে এই বিষয়ে লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লাকেও লিখিতভাবে অভিযোগ জানান কৃষ্ণনগরের সাংসদ।

আইনি লড়াই ও আদালতের নির্দেশ

প্রশাসনের এই আচরণের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে আইনি পদক্ষেপের হুঙ্কার দিয়েছিলেন মহুয়া মৈত্র। শেষ পর্যন্ত তিনি সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করেন। সেখানে তাঁর স্পষ্ট অভিযোগ ছিল, বৈধভাবে ঘর বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও জেলা প্রশাসনের কর্তারা তাঁকে জোর করে উচ্ছেদ করার চেষ্টা করেছিলেন।

এদিনের শুনানিতে পশ্চিমবঙ্গ সরকার ও কেন্দ্রের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা। তিনি আদালতকে জানান যে, এই আবেদনের প্রেক্ষিতে তাঁরা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিজেদের জবাব দাখিল করবেন। উভয় পক্ষের সওয়াল শোনার পর শীর্ষ আদালত নির্দেশ দিয়েছে যে, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে রাজ্যকে এই বিষয়ে জবাব দাখিল করতে হবে। এর পরবর্তী এক সপ্তাহের মধ্যে আবেদনকারী সাংসদ তার পাল্টা জবাব জমা দিতে পারবেন। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে এই মামলার পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের এই কড়া পদক্ষেপে এখন রাজ্য সরকার কী সাফাই দেয় এবং এই আইনি লড়াই কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

Rick Sarkar
  • Rick Sarkar

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *