সুপ্রিম কোর্টেও বড় ধাক্কা মমতার দলের! অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ মামলায় হাইকোর্টের রায়েই সিলমোহর শীর্ষ আদালতের

তৃণমূলের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ মামলায় সুপ্রিম কোর্টে বড় ধাক্কা খেল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির। কলকাতা হাইকোর্টের রায়ে কোনওরকম হস্তক্ষেপ করতে অস্বীকার করেছে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। বিচারপতি এম এম সুন্দরেশ এবং বিচারপতি প্রসন্ন ভি ভারালের বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, জাতীয় নির্বাচন কমিশন যেহেতু ইতিমধ্যেই তৃণমূলের নাম ও প্রতীক বাজেয়াপ্ত করেছে, তাই প্রথমে ঠিক করা প্রয়োজন যে কোন পক্ষ আসল দল। এর ফলে ভোটের মুখে দলের খরচ চালানো নিয়ে বড়সড় অনিশ্চয়তা তৈরি হলো।
সুপ্রিম কোর্টে কোন পক্ষ কী সওয়াল করল?
এদিন শুনানিতে তৃণমূলের পক্ষে আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি সওয়াল করে জানান, বিরোধী দল হিসাবে তৃণমূলকে সম্পূর্ণ পঙ্গু করে রাখার চেষ্টা চলছে। দল পরিচালনার জন্য প্রতি মাসে ১২.১৫ কোটি টাকার প্রয়োজন হয়। সামনেই পুরসভা নির্বাচন রয়েছে, যার জন্য বিপুল অর্থের প্রয়োজন। অথচ ইডি যে চারটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করেছে, তাতে ২১২ কোটি টাকা জমা রয়েছে। সেই টাকা থেকে যাতে লেনদেন করার অনুমতি দেওয়া হয়, সেই আর্জি জানানো হয়। ১১ অগস্ট কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী অ্যাডমিনিস্ট্রেটরের মাধ্যমে কিছু খরচ মেটানোর ব্যবস্থা হলেও তা পর্যাপ্ত নয় বলে দাবি করা হয়।
পাল্টা সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা এই আর্জির তীব্র বিরোধিতা করে জানান, আগে নিশ্চিত হওয়া দরকার যে আসল দল কোনটি। পাশাপাশি, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়ের প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, বিভিন্ন জমি বিক্রির বেআইনি ও বিতর্কিত টাকা তৃণমূলের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে। তাই যাতে এই বেআইনি অর্থ ব্যবহার করা না হয়, সেই আবেদন জানান তিনি। অন্যদিকে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের আইনজীবীরও দাবি ছিল, নির্বাচন কমিশন যখন তৃণমূলের নাম ও প্রতীক ফ্রিজ করেছে, তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের ওই অ্যাকাউন্টগুলির ওপর কোনও অধিকার থাকা উচিত নয়।
ইডি-র মূল অভিযোগ ও আগের প্রেক্ষাপট
কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি-র দাবি ছিল, তৃণমূলের অ্যাকাউন্টগুলিতে বিভিন্ন মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তি এবং প্রভাবশালী সংস্থার বিপুল পরিমাণ অবৈধ অর্থ স্থানান্তরিত হয়েছে। নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থেই ওই অ্যাকাউন্টগুলির লেনদেন বন্ধ রাখা জরুরি।
ইডি-র পূর্বে পেশ করা তথ্য অনুযায়ী, তৃণমূল নেতা দেবরাজ চক্রবর্তী ধাপে ধাপে ১০ কোটি টাকা, বিতর্কিত সংস্থা ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’ প্রায় ৩০ কোটি টাকা এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায় প্রায় ৭ কোটি টাকা জমা করেছেন। এর আগে ইডি তৃণমূলের কয়েকটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করলেও, কলকাতা হাইকোর্ট কিছু শর্ত সাপেক্ষে সেই অ্যাকাউন্টের টাকা ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রতীক ফ্রিজ থাকার কারণে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে হস্তক্ষেপ করল না শীর্ষ আদালত।