৫ বার ফেল, ষষ্ঠবারে বাজিমাত! UPSC-তে চরম ব্যর্থতার পর এখন কোন বড় পদে বসলেন মনস্বী?

দেশের অন্যতম কঠিন এবং সর্বভারতীয় পরীক্ষার নাম ইউপিএসসি (UPSC Civil Services)। এই প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় সফল হতে বছরের পর বছর ধরে ঘাম ঝরান লক্ষ লক্ষ তরুণ-তরুণী। তবে প্রথম বা দ্বিতীয় চেষ্টাতেই সবাই সফল হন না। অনেকের কাছেই এই পথ অত্যন্ত কণ্টকাকীর্ণ। দীর্ঘ লড়াই ও একাধিক ব্যর্থতাকে পাশ কাটিয়ে কীভাবে সাফল্যের শিখরে পৌঁছানো যায়, তার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত মধ্যপ্রদেশ ক্যাডারের আইপিএস (IPS) আধিকারিক মনস্বী শর্মা (Manaswi Sharma)।

৫ বার ব্যর্থতা, ষষ্ঠবার বাজিমাত
হরিয়ানার কর্নালে জন্ম নেওয়া মনস্বী ২০১৭ সাল থেকে ইউপিএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে শুরু করেন। প্রতিটি প্রচেষ্টাতেই তিনি প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে মূল পরীক্ষায় বসতেন। কিন্তু টানা প্রথম পাঁচবার কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অধরাই থেকে যায়। তবে হাল ছাড়েননি তিনি। নিজের ব্যর্থতাগুলোকে হতাশার কারণ না বানিয়ে সেখান থেকেই শিক্ষা নেন এবং সঠিক কৌশল নির্ধারণ করেন। অবশেষে নিজের ষষ্ঠ ও শেষ প্রচেষ্টায় ২০২২ সালের সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় সর্বভারতীয় স্তরে ১০১তম স্থান অধিকার করে আইপিএস হিসেবে নির্বাচিত হন। উল্লেখ্য, এর আগে ২০১৯ সালে কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর (CAPF) সহকারী কমান্ড্যান্ট পরীক্ষাতেও সর্বভারতীয় স্তরে ২৮তম স্থান অর্জন করেছিলেন তিনি।

শিক্ষাবান্ধব পরিবার ও আইপিএস যাত্রা
পরিবারে শিক্ষার সুদৃঢ় পরিবেশ থাকায় ছোট থেকেই পড়াশোনার প্রতি ঝোঁক ছিল মনস্বীর। তাঁর বাবা অধ্যাপক রাধেশ্যাম শর্মা চৌধুরী দেবীলাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ছিলেন এবং মা ডঃ রেখা শর্মা সরকারি গার্লস স্কুলের হেড মিস্ট্রেস হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। মূলত দিল্লিতে থেকেই ইউপিএসসির কঠিন লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিয়েছিলেন তিনি।

উজ্জয়িনীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে নতুন দায়িত্ব
প্রশিক্ষণ ও প্রাথমিক দায়িত্ব পালনের পর এবার তাঁর কেরিয়ারে এল আরও এক বড় দায়িত্ব। সম্প্রতি মধ্যপ্রদেশ সরকারের পক্ষ থেকে এক প্রশাসনিক রদবদলে ২০২৩ ব্যাচের এই আইপিএস আধিকারিককে রেওয়ার তেওনথারের SDOP পদ থেকে সরাসরি উজ্জয়িনীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ASP) পদে বদলি করা হয়েছে।

মনস্বী শর্মার এই অদম্য লড়াই প্রমাণ করে যে, জীবনের প্রাথমিক ব্যর্থতা কখনই চূড়ান্ত সাফল্যের অন্তরায় হতে পারে না। সঠিক মানসিকতা, লাগাতার প্রচেষ্টা এবং শেষ সুযোগ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার জেদ থাকলেই কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *