মাত্র ১৯ বছর বয়সে তাক লাগালেন মুম্বইয়ের তরুণ! এআই স্টার্টআপে তুললেন ২৫ কোটি টাকা, নেপথ্যে কে এই ধ্রুব্য?

বয়স মাত্র ১৯ বছর। যে বয়সে বেশিরভাগ তরুণ-তরুণী কলেজ ও কেরিয়ারের ইঁদুরদৌড়ে সামিল হন, ঠিক সেই বয়সেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) দুনিয়ায় এক অবিশ্বাস্য ইতিহাস গড়লেন মুম্বইয়ের এক তরুণ। ধ্রুব্য শাহ নামের এই প্রতিভাবান কিশোর নিজের মেধা ও দূরদর্শিতায় গড়ে তুলেছেন নিজস্ব স্টার্টআপ ‘সুপারমেমোরি’। আর তাঁর এই চমকপ্রদ সাফল্যে মুগ্ধ হয়ে গুগল ও ওপেনএআই-এর মতো বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি জায়ান্ট এবং বিনিয়োগকারীরা প্রায় ৩ মিলিয়ন ডলার— অর্থাৎ ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ২৫ কোটি টাকার বিশাল তহবিল তুলে দিয়েছেন তাঁর হাতে।

ছোট থেকেই কোডিংয়ের নেশা:
মুম্বইয়ের বাসিন্দা ধ্রুব্যর প্রযুক্তিপ্রীতির শুরুটা হয়েছিল বেশ ছোটবেলা থেকেই। ইঞ্জিনিয়ারিং প্রবেশিকা পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় থেকেই তিনি শখের বশে ছোট ছোট সফটওয়্যার পণ্য বা প্রডাক্ট তৈরি করতে শুরু করেছিলেন। তাঁর তৈরি করা তেমনই একটি প্রারম্ভিক প্রজেক্ট থেকে আসা উপার্জন তাঁকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি দেওয়ার পথ প্রশস্ত করে দেয়। পরবর্তীতে প্রযুক্তি ও বিজ্ঞানে অসাধারণ দক্ষতার জন্য তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মর্যাদাপূর্ণ ‘ও-১’ (O-1) ভিসাও লাভ করেন।

চল্লিশ সপ্তাহে চল্লিশটি প্রডাক্টের চ্যালেঞ্জ:
আমেরিকায় পৌঁছানোর পর ধ্রুব্য এক অভিনব লক্ষ্য স্থির করেন। টানা ৪০ সপ্তাহ ধরে প্রতি সপ্তাহে একটি করে নতুন সফটওয়্যার প্রডাক্ট তৈরি ও বাজারে লঞ্চ করার চ্যালেঞ্জ নেন তিনি। আর এই পরীক্ষামূলক কাজের মাধ্যমেই জন্ম নেয় তাঁর স্বপ্নের প্রজেক্ট ‘সুপারমেমোরি’। শুরুর দিকে ‘এনি কনটেক্সট’ নামে যাত্রা শুরু করা এই টুলটি প্রথমে শুধুমাত্র টুইটার বুকমার্ক নিয়ে কাজ করলেও, পরবর্তীতে তা এক পূর্ণাঙ্গ এআই মেমোরি ইনফ্রাস্ট্রাকচার প্ল্যাটফর্মে রূপান্তরিত হয়।

এআই-কে মানুষের মতো স্মৃতিশক্তি দেওয়া:
বর্তমান সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে চর্চা চললেও, এআই-এর একটি বড় সীমাবদ্ধতা হলো মানুষের মতো পুরনো বা পূর্ববর্তী কথোপকথনের প্রসঙ্গ মনে রাখতে না পারা। আর এই সমস্যারই মোক্ষম সমাধান এনেছে ধ্রুব্যর ‘সুপারমেমোরি’। এটি এমন একটি উন্নত এআই প্ল্যাটফর্ম, যা ইমেল, চ্যাট, পিডিএফ এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নথি থেকে তথ্য সংগ্রহ ও নিখুঁতভাবে সংগঠিত করতে পারে। এর ফলে কোনো ব্যবহারকারীর প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সময় এআই সিস্টেম সহজেই তার অতীতের অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান কাজে লাগাতে সক্ষম হয়।

সাফল্যের নেপথ্য জার্নি:
নিজের এই স্টার্টআপ শুরু করার আগে ক্লাউডফ্লেয়ারের মতো সংস্থায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে ধ্রুব্যর। ২০২৪ সালে তিনি ওই সংস্থার ‘ওয়ার্কার্স এআই’ টিমে ইন্টার্ন হিসেবে কাজ করেন এবং এআই প্ল্যাটফর্মের জন্য ফাংশন কলিংয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। এআই এজেন্টদের জন্য বেশ কিছু ওপেন-সোর্স টুলও তৈরি করেছেন তিনি।

সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই তাঁকে আইআইটি বোম্বের ড্রপআউট বলে দাবি করলেও, তাঁর পেশাগত প্রোফাইল অনুযায়ী তিনি আইআইটিতে পড়াশোনা করেননি। তা সত্ত্বেও নিজের অদম্য জেদ আর প্রতিভার জোরে তিনি আজ বিশ্বমঞ্চে ভারতের নাম উজ্জ্বল করেছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই প্রযুক্তির মেমোরি পরিকাঠামো তৈরিতে এই ২৫ কোটি টাকার তহবিল সুপারমেমোরিকে আগামী দিনে আরও বহুদূর এগিয়ে নিয়ে যাবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *