এআই দিয়ে জাল মার্কশিট বানিয়ে সোজা দ্বিতীয় বর্ষে ভর্তি! ইন্দোরের কলেজ ছাত্রীর কাণ্ড জানলে চমকে উঠবেন

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI)-এর অপব্যবহার করে এক অভিনব ও চাঞ্চল্যকর জালিয়াতির ঘটনা সামনে এসেছে মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরে। দেবী আহিল্যা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত ধারের একটি সরকারি কলেজে বিএ পড়ুয়া এক শিক্ষার্থী এআই-এর সাহায্য নিয়ে সম্পূর্ণ জাল মার্কশিট তৈরি করে দ্বিতীয় বর্ষে ভর্তি হয়েছিল বলে অভিযোগ। শুধু তাই নয়, ওই ভুয়া নথির জোরেই সে কেবল ভর্তি নিশ্চিত করেনি, বরং পরীক্ষায় বসে পাশ করার ফন্দিও এঁটেছিল।
জানা গেছে, ওই ছাত্রী এর আগে বিএ প্রথম বর্ষের পরীক্ষায় বসেছিল। পরবর্তীতে পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হলে দেখা যায়, সে একটি বিষয়ে সাপ্লিমেন্টারি পেয়েছে। অভিযোগ ওঠে, এই ফলাফল নিজের মনের মতো করে পরিবর্তন করতে এবং নিজেকে কৃতকার্য হিসেবে দেখাতে সে আধুনিক এআই প্রযুক্তির সাহায্য নেয়। এরপর ওই জাল মার্কশিটটি ব্যবহার করে সে অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে বিএ দ্বিতীয় বর্ষে নিজের ভর্তি পাকা করে এবং পরবর্তী সময়ে দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষাতেও অংশ নেয়।
মুখ্যমন্ত্রীর হেল্পলাইনে অভিযোগ ও পণ্ডশ্রম:
তবে শেষরক্ষা হয়নি। দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের সময় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ওই ছাত্রীর ফলাফল আটকে দেয়। ফলাফল প্রকাশ না হওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে উল্টে ওই ছাত্রীটিই সোজা মুখ্যমন্ত্রীর হেল্পলাইনে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। আর এই অভিযোগের পরেই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। শুরু হয় উচ্চপর্যায়ের তদন্ত। তদন্তের অংশ হিসেবে ছাত্রীটির জমা দেওয়া মার্কশিটটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল নথিপত্রের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়। আর তখনই চাঞ্চল্যকর তথ্যটি প্রকাশ্যে আসে—প্রমাণিত হয় যে, মার্কশিটটিতে সম্পূর্ণ কারচুপি করা হয়েছে।
কলেজে নোটিশ ও কঠোর পদক্ষেপের নির্দেশ:
পুরো ঘটনাটি নিয়ে দেবী আহল্যা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার ডঃ বিষ্ণু মিশ্র জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে ছাত্রীর ফলাফলে জালিয়াতির বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে গেছে। এই বিষয়ে ধারের ওই সংশ্লিষ্ট সরকারি কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে ছাত্রীর ভর্তি ও সমস্ত নথিপত্র চেয়ে একটি সরকারি নোটিশ জারি করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, কলেজ থেকে প্রাপ্ত তথ্য এবং নথিপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখার পর নিয়ম অনুযায়ী ওই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।