এআই দুনিয়ায় রাজত্ব করতে চান? আইআইটি অধ্যাপকের বাতলানো এই একটি পরীক্ষাই বদলে দেবে আপনার ভবিষ্যৎ!

বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তির দুনিয়ায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) যেভাবে নিজের জায়গা পাকা করছে, তাতে শিক্ষাব্যবস্থাতেও শুরু হয়েছে এক নতুন যুগ। স্কুল থেকে শুরু করে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান—সব জায়গাতেই এখন এআই পাঠ্যক্রম চালুর ধুম। তবে এই বদলের জেরে দ্বাদশ শ্রেণি বা স্নাতক স্তরের বহু শিক্ষার্থীই বর্তমানে কেরিয়ারের পথ বেছে নেওয়া নিয়ে এক ধরণের ধোঁয়াশা ও বিভ্রান্তির মধ্যে রয়েছে। আর ঠিক এই সময়ই শিক্ষার্থীদের সঠিক দিশা দেখাতে মুখ খুলেছেন আইআইটি মাদ্রাজ-এর বিশিষ্ট অধ্যাপক বলরামন রবীন্দ্রন। তাঁর একটি সুনির্দিষ্ট মন্তব্য এ মুহূর্তে দেশের শিক্ষামহলে ব্যাপক শোরগোল ফেলে দিয়েছে।

এআই-এর প্রবেশদ্বার ‘গেট’ (GATE):
আইআইটি মাদ্রাজ-এর ওয়াধওয়ানি স্কুল অফ ডেটা সায়েন্স অ্যান্ড আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স-এর প্রধান অধ্যাপক বলরামন রবীন্দ্রন স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, ভারতের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎ পথচলা শুরু হতে পারে মাত্র একটি পরীক্ষার মাধ্যমেই। আর তা হল ‘গ্র্যাজুয়েট অ্যাপ্টিটিউড টেস্ট ইন ইঞ্জিনিয়ারিং’ বা সংক্ষেপে ‘গেট’ (GATE)। তিনি তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশ্যে আহ্বান জানিয়েছেন, তাঁরা যেন এআই-এর জগতে প্রবেশ করার জন্য গেট পরীক্ষাকেই নিজেদের মূল ‘প্রবেশপত্র’ হিসেবে বেছে নেন। দেশের নিজস্ব চাহিদা মেটাতে এবং দেশীয় গবেষণা ও মেধা বিকাশের ওপর জোর দিয়েই এই পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

কেন এই বিশেষ পেপারে নজর দিতে হবে?
অধ্যাপক রবীন্দ্রনের মতে, যে সকল ছাত্রছাত্রী আগামী দিনে এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী, তাঁদের গেট পরীক্ষার ‘ডেটা সায়েন্স অ্যান্ড আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ (DA) পেপারটির ওপর বিশেষভাবে জোর দেওয়া উচিত। তাঁর অভিমত, ভারত শুধু এআই প্রযুক্তির ব্যবহারকারী হয়ে না থেকে, এর উৎপাদক হয়ে উঠুক এবং প্রযুক্তির ওপর দেশের নিজস্ব নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকুক।

উল্লেখ্য, বর্তমানে গেট পরীক্ষায় মোট ৩০টি পেপার থাকে, যার মধ্যে এই ডিএ (DA) পেপারটি বিশেষভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে শিক্ষাক্ষেত্রে এআই-এর কদর বাড়ায় এই শাখায় উচ্চশিক্ষা বা স্নাতকোত্তর এবং গবেষণার সুযোগ বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। আইআইটি মাদ্রাজের মতো প্রথম সারির প্রতিষ্ঠানে ডেটা সায়েন্স ও এআই-এর এম.টেক (M.Tech) কোর্সে ভর্তির জন্য এই গেট ডিএ (GATE DA) কোয়ালিফিকেশন এখন অন্যতম প্রধান মাপকাঠি। ফলে যারা প্রযুক্তির দুনিয়ায় নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়তে চান, তাঁদের জন্য এই পথই হয়ে উঠতে পারে সাফল্যের চাবিকাঠি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *