“আইএএস হওয়া সহজ, নেতা হওয়া নয়!” দিব্যা মিত্তালের রাজনীতিতে এন্ট্রি নিয়ে রাজভরের মন্তব্যে ঝড়ের বেগ

প্রাক্তন আইএএস অফিসার দিব্যা মিত্তালের রাজনীতিতে প্রবেশের ঘোষণা ঘিরে উত্তরপ্রদেশের রাজনীতিতে নতুন করে জলঘোলা শুরু হয়েছে। এই বিষয়ে রাজ্যের ক্যাবিনেট মন্ত্রী ওম প্রকাশ রাজভরের একটি মন্তব্য বর্তমানে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। দিব্যা মিত্তালের রাজনীতিতে আসা প্রসঙ্গে রাজভর কটাক্ষ করে বলেছেন যে, আইএএস অফিসার হওয়া সহজ হলেও নেতা হওয়া অতটা সহজ নয়। তাঁর এই মন্তব্যের পরেই রাজনৈতিক অঙ্গনে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
মন্ত্রীর এই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা প্রশ্ন তুলছেন যে, আমলা হওয়া যদি এতই সহজ হয়, তবে মন্ত্রীমশাই কেন নিজের দুই ছেলেকে আইএএস অফিসার করে দেখাচ্ছেন না? বিশেষ করে বিরোধী শিবির অর্থাৎ কংগ্রেস এবং সমাজবাদী পার্টির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা ওম প্রকাশ রাজভরের এই মন্তব্যকে হাতিয়ার করে ময়দানে নেমে পড়েছেন। তবে এত সব বিতর্কের মাঝেও ওম প্রকাশ রাজভর অবশ্য এ বিষয়ে নতুন করে আর কোনো মুখ খোলেননি।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের স্বাধীনতার পর থেকে এমন কোনো নজির নেই যেখানে কোনো পোড় খাওয়া রাজনীতিবিদ সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য বা আইএএস হওয়ার উদ্দেশ্যে নিজের রাজনৈতিক জীবন ত্যাগ করেছেন। তবে এর বিপরীত চিত্রটি বেশ স্পষ্ট। অতীতে বহু আইএএস এবং আইপিএস অফিসার সরকারি চাকরি ছেড়ে রাজনীতিতে যোগ দিয়েছেন এবং তাঁদের অনেকেই নির্বাচনী ময়দানে বড় সাফল্যও পেয়েছেন।
এই তালিকায় রয়েছেন পিএল পুনিয়া, অলোক রঞ্জন, অসীম অরুণ, ব্রজলালের মতো হেভিওয়েটরা, যারা আমলাতন্ত্র ছেড়ে মূলধারার রাজনীতিতে নিজের জায়গা পাকা করেছেন। কেউ মন্ত্রী হয়েছেন, আবার কেউ সাংসদ হিসেবে দায়িত্ব সামলেছেন। তবে চন্দ্রপাল, অমিতাভ ঠাকুর বা এস আর দারাপুরির মতো কিছু সাবেক আধিকারিক নিজস্ব দল গঠন করলেও রাজনীতিতে সেই অর্থে বড় সাফল্য পাননি। আমলা থেকে রাজনীতিক হয়ে ওঠার এই দীর্ঘ তালিকায় এখন নতুন সংযোজন প্রাক্তন আইএএস দিব্যা মিত্তাল, যা নিয়েই উত্তরপ্রদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন চলছে নানা জল্পনা।