ককপিটেই দুই পাইলটের মধ্যে হাতাহাতি! হাইজ্যাকের ভুয়ো অ্যালার্টে সৌদি আরবে জরুরি অবতরণ বিমানের

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝেই বিমান অপহরণের খবরে হুড়মুড়িয়ে শোরগোল পড়ে গেল আন্তর্জাতিক মহলে। দুবাই থেকে ইজরায়েলের তেল আভিভগামী একটি ফ্লাইটে বড়সড় বিপদের আশঙ্কায় রাতের ঘুম উড়েছিল বিশেষজ্ঞদের। তবে দীর্ঘ উৎকণ্ঠার পর জানা যায়, ভয়ের কোনও কারণ নেই। আদতে বিমানটি হাইজ্যাক বা অপহরণ করা হয়নি, বরং ককপিটের ভেতরে দুই পাইলটের মধ্যে হাতাহাতির মতো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার কারণেই গোটা ঘটনাটি ঘটেছিল।
আকাশে ঠিক কী ঘটেছিল?
সূত্রের খবর, দুবাই থেকে তেল আভিভ যাওয়ার পথে ওই বিমানটিতে মোট ১৮০ জন যাত্রী ছিলেন, যাঁদের মধ্যে প্রায় ১৫০ জনই ইজরায়েলের নাগরিক। বিমানটি যখন সৌদি আরবের আকাশসীমার উপর দিয়ে উড়ছিল, ঠিক তখনই এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলে (ATC) একটি হাইজ্যাক অ্যালার্ট বা জরুরি সংকেত পৌঁছয়। আর এই সংকেত আসা মাত্রই আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল মহলে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে ইজরায়েলও তৎক্ষণাৎ নড়েচড়ে বসে। তবে পরে দেশটির পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয় যে, তাদের কোনও বিমান অপহরণের শিকার হয়নি।
পাইলটদের মধ্যে তীব্র বচসা থেকেই বিপত্তি
প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, বিমানটি যখন আকাশে ছিল, সেই সময় ককপিটের ভেতরে দুই পাইলটের মধ্যে কোনও একটি বিষয় নিয়ে তীব্র কথা কাটাকাটি শুরু হয়। মুহূর্তের মধ্যে সেই বচসা হাতাহাতির পর্যায়ে পৌঁছে যায়। এই উত্তেজনার জেরে পাইলটরা ভুলবশত বা বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতিতে ডিসট্রেস সিগন্যাল (Distress Signal) পাঠিয়ে দেন, যা থেকে পরবর্তীতে হাইজ্যাক হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।
পরিস্থিতি সামাল দিতে তেল আভিভের নির্ধারিত রুট থেকে আচমকাই বিমানটির গতিপথ বদলে ফেলা হয় এবং সেটিকে সৌদি আরবের মাটিতে জরুরি ভিত্তিতে অবতরণ করানো হয়। যদিও শেষ পর্যন্ত বড় ধরনের কোনও দুর্ঘটনা বা নাশকতা এড়ানো সম্ভব হয়েছে এবং সমস্ত যাত্রীরা নিরাপদে রয়েছেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।