নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের ঠিক আগে বিরাট মোড়! কংগ্রেস প্রার্থীর জামিন চ্যালেঞ্জ করে সরাসরি সুপ্রিম কোর্টে রাজ্য সরকার!

নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানের অন্তর্বর্তী জামিনের নির্দেশকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করে এবার দেশের সর্বোচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হলো রাজ্য সরকার। এর আগে কলকাতা হাইকোর্ট কংগ্রেস প্রার্থীকে অন্তর্বর্তী জামিন দিলেও, সেই রায়কে পতিহত করতেই সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করেছে রাজ্য। আগামী সোমবার, অর্থাৎ আগামী ৫ অক্টোবর এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মামলার শুনানি সুপ্রিম কোর্টে অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টে জরুরি শুনানির আর্জি খারিজ
রাজ্য সরকারের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা এদিন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তর বিশেষ বেঞ্চে এই মামলাটি উত্থাপন করেন। রাজ্যের পক্ষ থেকে জরুরি ভিত্তিতে আগামীকালই এই মামলার শুনানির জোরালো আর্জি জানানো হয়েছিল। সলিসিটর জেনারেল যুক্তি দিয়েছিলেন যে, আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রামে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। ফলে ৫ অক্টোবর শুনানি হলে মামলার মূল উদ্দেশ্যই ব্যাহত হতে পারে। তবে রাজ্যের এই যুক্তি ও জরুরি শুনানির আবেদন খারিজ করে দিয়েছে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ।
মামলার প্রেক্ষাপট ও হাইকোর্টের শর্ত
প্রসঙ্গত, গতকালই কলকাতা হাইকোর্ট মোট ৬টি মামলায় নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে অন্তর্বর্তী জামিন মঞ্জুর করেছিল। একই সঙ্গে হাইকোর্ট কড়া শর্ত দিয়ে জানিয়েছিল যে, ভোট মিটে গেলেই আগামী ২১ অক্টোবরের মধ্যে কংগ্রেস প্রার্থীকে পুলিশের কাছে পুনরায় আত্মসমর্পণ করতে হবে।
এদিকে আইনি প্রক্রিয়ার জেরে গতকাল অন্তর্বর্তী জামিন পেলেও হলদিয়া জেল থেকে তৎক্ষণাৎ মুক্তি পাননি মিলন প্রধান। কাঁথি আদালতে সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আজই তাঁর জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে। উল্লেখ্য, প্রার্থী হিসেবে তাঁর নাম ঘোষিত হওয়ার পরই খুনসহ একাধিক পুরনো মামলার গ্রেফতারি পরোয়ানার ভিত্তিতে তাঁকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। তাৎপর্যপূর্ণভাবে, আসন্ন নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে এই কংগ্রেস প্রার্থীকেই সমর্থন জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এখন আইনি লড়াইয়ের এই টানাপোড়েনের মাঝে আগামী ৫ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্ট এই বিষয়ে কী রায় দেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজনৈতিক মহল।