ডিম-মাংসের বালাই নেই, শুধু রুটি-ডাল-পনির খেয়েই এশিয়ান গেমসে ইতিহাস! তিন পদক জিতে কী করলেন গুলবীর?

টানা পাঁচ দিনে চারটি রুদ্ধশ্বাস রেস। চোখের পলকে ক্লান্তি গ্রাস করলেও ট্র্যাকের লড়াইয়ে একচুলও কমেনি তেজ! এশিয়ান গেমসের আসরে অবিশ্বাস্য নৈপুণ্য দেখিয়ে মোট তিনটি পদক নিজেদের ঝুলিতে পুরে ইতিহাস গড়েছেন ভারতের তারকা দৌড়বিদ গুলবীর সিং। ১৫০০ এবং ১০,০০০ মিটারে জোড়া রুপো জেতার পর এবার ৫০০০ মিটারে ব্রোঞ্জ পদক জিতে নিলেন তিনি। চতুর্থ ভারতীয় হিসেবে একই এশিয়ান গেমসে তিনটি পদক জয়ের এই বিরল নজির গড়েছেন তিনি। আর এই অভাবনীয় সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছে তাঁর কঠোর নিরামিষ ডায়েট এবং বজরংবলীর প্রতি অগাধ বিশ্বাস।

নিরামিষ খাবারেই অ্যাথলেটিক্সে বাজিমাত
ডিমের নামগন্ধ নেই, মাংস তো দূরঅস্ত! প্রতিদিনের পাতে কেবল সাধারণ রুটি, ডাল আর পনির—এটাই তাঁর শক্তির মূল চাবিকাঠি। নিজের ডায়েট নিয়ে সাফ কথা গুলবীরের, “আমি আমিষ ছুঁই না, ডিমও খাই না। আমি সম্পূর্ণ নিরামিষাশী। রোজ রুটি, ডাল এবং পনির খাই।” এমনকি আমেরিকার মাটিতে দীর্ঘ অনুশীলনের কঠিন সময়েও নিজের খাদ্যাভ্যাসে বিন্দুমাত্র বদল আনেননি তিনি। তাঁর মতে, হোটেল থেকে পাওয়া সুষম খাবার এবং পর্যাপ্ত প্রোটিনই তাঁকে ট্র্যাকের প্রতিপক্ষদের পেছনে ফেলার বাড়তি শক্তি জুগিয়েছে।

পাঁচ দিনে তিন পদকের ধকল ও স্ট্রেচিংয়ের চাবিকাঠি
মাত্র পাঁচ দিনের মধ্যে ১৫০০ মিটারের হিট সহ মোট চারটি অত্যন্ত ক্লান্তিকর ইভেন্টে ট্র্যাকে নামতে হয়েছে তাঁকে। তবুও প্রায় প্রতিবারই পোডিয়ামে নিজের জায়গা পাকা করে নিয়েছেন এই লড়াকু অ্যাথলেট। নিজের এই লড়াই নিয়ে গুলবীর বলেন, “সত্যিই অত্যন্ত ক্লান্তিকর সূচি ছিল। পাঁচ দিনে চারটে রেস দৌড়তে হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত দেশের জন্য তিনটি পদক নিয়ে ফিরতে পারছি, এটাই সবচেয়ে বড় তৃপ্তি।” অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ার নিজস্ব ফিজিয়োর সাহায্যে সঠিক স্ট্রেচিং ও মাসাজ করিয়ে শরীরের পেশির ধকল সামলেছেন তিনি। এর পাশাপাশি একটানা এন্ডুরেন্স ট্রেনিং তো ছিলই।

সঙ্গী বজরংবলীর মূর্তি ও মানসিক জোর
প্রতিটি জয়ের পরেই ভক্তিভরে কপালে তিলক কেটেছেন গুলবীর। নিজের ঘরে সর্বক্ষণ তিনি বজরংবলীর একটি ছোট মূর্তি সঙ্গে রাখেন। তাঁর গভীর বিশ্বাস, এই দেবাদিদেবের আশীর্বাদই তাঁকে কঠিন লড়াইয়ে মানসিক জোর জুগিয়েছে। গুলবীর জানান, “ঘরে বজরংবলীর একটা মূর্তি রাখি। আমাকে সবসময় রক্ষা করার জন্য ওঁর কাছেই প্রার্থনা করি।” উল্লেখ্য, এই ঐতিহাসিক সাফল্যের সুবাদে ল্যাভি পিন্টো, পিটি ঊষা এবং কেএম বীণামলের মতো ভারতীয় ক্রীড়া জগতের কিংবদন্তিদের এলিট ক্লাবে নিজের নাম পাকা করে নিলেন গুলবীর সিং।

ভয় কাটিয়ে এবার অলিম্পিক্সের লক্ষ্য
২০২২ সালের হাংঝৌ এশিয়ান গেমসে আন্তর্জাতিক মঞ্চের অভিজ্ঞতা কম থাকায় কিছুটা নার্ভাস ছিলেন এই তরুণ তুর্কি। তবে সময়ের সঙ্গে সেই ভীতি উধাও। গুলবীরের আত্মবিশ্বাসী মন্তব্য, “তখন নতুন ছিলাম, তাই একটু ভয় করত। এখন রোজ অলিম্পিক্স ও বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপের পদকজয়ীদের সঙ্গে অনুশীলন করি। ওদের সঙ্গে যখন তাল মেলাতে পারছি, তখন ট্র্যাকেও পারব।” এশিয়াডের অধ্যায় চুকিয়ে এখন থেকেই ভবিষ্যতের ছক কষতে শুরু করে দিয়েছেন তিনি। পরবর্তী লক্ষ্য বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপ এবং অলিম্পিক্সের টিকিট নিশ্চিত করা। আগামী দিনে নিজের দৌড়ের দূরত্ব বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে আরও অনেক বেশি স্মার্ট ও কৌশলগত হবেন বলেও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন গুলবীর।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *