ভারত-ব্রাজিল ম্যাচে বিরাট অফার! একটা টিকিট কাটলেই মিলবে আরেকটি একদম ফ্রি? জানুন আসল সত্য

আর মাত্র ৪৮ ঘণ্টার অপেক্ষা! তারপরেই ফুটবলপ্রেমীদের পাড় কাপাতে তিলোত্তমায় পা রাখতে চলেছেন ভিনিসিয়াস জুনিয়র, রাফিনহার মতো বিশ্বতারকারা। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ছ’টা থেকে সাতটার মধ্যে তাঁদের কলকাতায় নামার কথা। তবে এই মেগা ম্যাচ ঘিরে টিকিটের চাহিদা এবং বিক্রি নিয়ে গুঞ্জনের শেষ নেই। শোনা যাচ্ছে, দর্শক টানতে ভারত-ব্রাজিল ম্যাচের টিকিটে নাকি ‘একটা কিনলে একটা ফ্রি’ অফার দেওয়া হতে পারে! যদিও এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো সিলমোহর পড়েনি।

টিকিট বিক্রি ও স্টেডিয়ামের নতুন রূপ

গত সপ্তাহে বেঙ্গালুরুতে ভারত-পানামা ম্যাচে ১০ হাজার আসনের কান্তিরাভা স্টেডিয়াম পুরো না ভরলেও, কলকাতার যুবভারতীর দর্শকাসন ৬০ হাজারের বেশি। টিকিটের চড়া দামের কারণে এখনও পর্যন্ত আশানুরূপ টিকিট বিক্রি না হওয়ায় এই বিশেষ কৌশল নেওয়া হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এ নিয়ে ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ ও ফেডারেশন সভাপতি কল্যাণ চৌবে মুখে কুলুপ আঁটলেও, স্টেডিয়াম সাজিয়ে তোলার কাজ চলছে যুদ্ধকালীন তৎপরতায়।

মঙ্গলবার এক বিশেষ সাংবাদিক সম্মেলনে ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ, স্পোর্টস সেক্রেটারি অবনীন্দ্র সিং, তথ্য ও সংস্কৃতি সচিব সৌমিত্র মোহন, বিধাননগর কমিশনারেটের দেবর্ষি দত্ত এবং ফেডারেশন সভাপতি কল্যাণ চৌবে উপস্থিত ছিলেন। ফিফার আন্তর্জাতিক ম্যাচের সমস্ত মানদণ্ড বজায় রেখে যুবভারতীতে তৈরি হচ্ছে নতুন ডাগআউট। গোলপোস্টের দুই ধারে বসছে জোড়া জায়ান্ট এলইডি স্ক্রিন। টিকিট জালিয়াতি রুখতে থাকছে ডিজিটাল টিকিট ও সিট নাম্বারিংয়ের ব্যবস্থা। এমনকি দর্শকদের জন্য থাকছে অ্যাম্বুলেন্স ও হুইলচেয়ারের বন্দোবস্তও।

তারকাদের ভিড় ও হাইপ্রোফাইল ডিনার

১ অক্টোবর শহরে পা রেখে ২ অক্টোবর যুবভারতীতে অনুশীলন করবে ব্রাজিল দল। সেদিন রাতেই রাজ্য সরকারের উদ্যোগে এক বিশেষ ডিনারে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে ব্রাজিল, উরুগুয়ে, পুরুষ ও মহিলা ভারতীয় দল এবং রাশিয়ার মহিলা দলকে। এছাড়া মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর হস্তক্ষেপে ভারতের মেয়েদের রাশিয়া বনাম ম্যাচের ভেন্যু কিশোর ভারতী থেকে সরিয়ে যুবভারতীতে নিয়ে আসা হয়েছে। এমনকি এই উন্মাদনা জেলা স্তরে ছড়িয়ে দিতে বিভিন্ন জেলায় বড় পর্দায় ম্যাচ দেখানোর ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।

ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তার কড়া চাদর

মেসি ম্যাচের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার নিরাপত্তায় বিন্দুমাত্র ছাড় দিচ্ছে না প্রশাসন। বিধাননগরের পুলিশ কর্তা দেবর্ষি দত্ত জানিয়েছেন, স্টেডিয়াম, মাঠ এবং ট্রাফিক—এই তিন ভাগে বিভক্ত হয়ে মোট ২০০০ পুলিশকর্মী মোতায়েন থাকবেন। স্টেডিয়ামে প্রবেশের আগে তিন ধাপে চেকিং হবে। জল, খাবার, ছাতা, দাহ্য পদার্থ বা কোনো ধরনের টিফো, ফেস্টুন ও পোস্টার নিয়ে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে স্টেডিয়ামের ভেতরে পর্যাপ্ত পানীয় জল ও খাবারের স্টল থাকবে। প্রতিটি দলের সঙ্গে একজন করে নোডাল অফিসার এবং সিনিয়র আইএএস ও আইপিএস অফিসার উপস্থিত থাকবেন। সবমিলিয়ে, পুজোর ঠিক আগেই কলকাতা জুড়ে এখন পুরোদমে জমে উঠেছে ফুটবলের মেগা উৎসব।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *