পুরো টাকা দিয়েও গ্যাস পাচ্ছেন কম? সরকারি তদন্তে ফাঁস হতেই মাথায় হাত সাধারণ মানুষের!

এলপিজি সিলিন্ডার (LPG Cylinder) নিয়ে দেশজুড়ে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এল। খোদ সরকারি তদন্তে দেখা গেছে, বাজারে সরবরাহ করা প্রতি চারটি সিলিন্ডারের মধ্যে অন্তত একটিতে নির্দিষ্ট পরিমাণের চেয়ে কম গ্যাস দেওয়া হচ্ছে। অর্থাৎ, গ্রাহক পুরো দাম চুকালেও গ্যাস কোম্পানির পকেট ভরছে ঠিকই, কিন্তু মার খাচ্ছেন সাধারণ ক্রেতারা।
কোথায় ধরা পড়ল এই গরমিল?
সম্প্রতি দক্ষিণের রাজ্য কর্ণাটকে এই চাঞ্চল্যকর বিষয়টি প্রকাশ্যে এসেছে। কর্ণাটক সরকারের লিগাল মেট্রোলজি ডিপার্টমেন্টের উদ্যোগে ‘মিশন নিখরা’ নামে একটি বিশেষ অভিযান চালানো হয়। রাজ্যের ১৭টি এলপিজি বটলিং প্লান্টে হানা দিয়ে গ্যাস সিলিন্ডারের সঠিক ওজন পরীক্ষা করেন আধিকারিকরা।
গত ২৪ সেপ্টেম্বর এই অভিযানের আওতায় মোট ১৫৩০টি সিলিন্ডার পরীক্ষা করা হয়। যার মধ্যে অবাক করা তথ্য সামনে আসে। দেখা যায়, প্রায় ৩৮২টি সিলিন্ডারে (অর্থাৎ মোট পরীক্ষার প্রায় ২৫ শতাংশ) নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে কম গ্যাস রয়েছে। সরকারি হানার মুখে পড়ে BPCL, HPCL, IOCL এবং Total Energy-র মতো সরকারি সংস্থার পাশাপাশি একাধিক বেসরকারি কোম্পানির বটলিং প্লান্টের এই কারচুপি সামনে চলে আসে। তবে তদন্তে এও দেখা গেছে যে, কম গ্যাস মিললেও অনুমোদিত সহনসীমার মধ্যেই বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তার পরিমাণ ছিল এবং কোনও সিলিন্ডারে অতিরিক্ত গ্যাস দেওয়ার ঘটনা ঘটেনি।
আইনি পদক্ষেপ ও সাধারণ মানুষের জন্য সতর্কতা
এই অনিয়মের জেরে ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট তিনটি কোম্পানির বিরুদ্ধে আইনি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং মোট ৭৯ হাজার টাকা জরিমানা ধার্য করেছে কর্ণাটক সরকার। গ্রাহকদের আরও বেশি সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রান্নার গ্যাস বাড়িতে ডেলিভারি নেওয়ার সময় অবশ্যই ওজন পরীক্ষা করে নেওয়া উচিত।
যদি কোনো গ্রাহকের সিলিন্ডারের ওজন নিয়ে সামান্যতমও সন্দেহ হয়, তবে ডেলিভারি ম্যানকে দিয়ে ওজন মাপার মেশিনে তা যাচাই করিয়ে নেওয়া বাধ্যতামূলক। এর ব্যত্যয় ঘটলে বা কোনো প্রতারণার শিকার হলে সঙ্গে সঙ্গে লিগাল মেট্রোলজি ডিপার্টমেন্টের হেল্পলাইন নম্বর 1800 599 1100-এ ফোন করে সরাসরি অভিযোগ জানানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।