মহাকাশে রহস্যজনক বিস্ফোরণ! আমেরিকার গুপ্ত স্যাটেলাইট চুরমার হতেই বিশ্বজুড়ে চরম আতঙ্ক

মহাকাশের শান্ত কক্ষপথে হঠাৎই এক তীব্র বিস্ফোরণ! চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে গেল আমেরিকার ঠান্ডাযুদ্ধের সময়ের একটি গোপন গোয়েন্দা কৃত্রিম উপগ্রহ। এতদিন নিষ্ক্রিয় অবস্থায় পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করা এই স্যাটেলাইটটি কীভাবে হঠাৎ ধ্বংস হয়ে গেল, তা নিয়ে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা মিলছে না। এই আকস্মিক ঘটনায় বিশ্বজুড়ে মহাকাশ বিজ্ঞানীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে।
কী এই USA 32 স্যাটেলাইট? আমেরিকার ওই ‘স্পাই স্যাটেলাইটে’র অফিসিয়াল নাম ছিল USA 32, যা ‘Farrah 3’ নামেও পরিচিত। সোভিয়েত ইউনিয়নের রেডার এবং রেডিও সংকেতে আড়িপাতার উদ্দেশ্যে ১৯৮৮ সালে ন্যাশনাল রিকন্যাস্যান্স অফিস (NRO) এটি মহাকাশে পাঠিয়েছিল। এক দশক আগেই এই নলাকার স্যাটেলাইটটি কর্মক্ষমতা হারিয়ে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছিল এবং নীরবে পৃথিবীর কক্ষপথ ঘুরে বেড়াচ্ছিল।
গত ১৭ সেপ্টেম্বর আমেরিকার মহাকাশ বাহিনীর নজরদারি বিভাগ ‘Space-Track’ প্রথম এই বিস্ফোরণের বিষয়টি প্রকাশ্যে আনে। তারা জানায়, গত ১৩ সেপ্টেম্বর পৃথিবীর প্রায় ৭৭৫ কিলোমিটার উপরে আচমকাই বিস্ফোরণ ঘটে USA 32 স্যাটেলাইটটি হাজার হাজার টুকরোয় চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে গেছে। বেসরকারি স্যাটেলাইট-ট্র্যাকিং সংস্থাও এই ধ্বংসাবশেষের ছবি প্রকাশ করেছে।
বিস্ফোরণের কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা ও জল্পনা এই আকস্মিক ধ্বংসলীলার পেছনে ঠিক কী কারণ রয়েছে, তা নিয়ে এখন চলছে জোরদার কাটাছেঁড়া। মূলত তিনটি সম্ভাবনা জোরালো হয়ে উঠছে:
-
মহাজাগতিক ধাক্কা: মহাশূন্যে ঘুরে বেড়ানো অন্য কোনো স্যাটেলাইটের টুকরো, গ্রহাণু বা মহাজাগতিক আবর্জনার সঙ্গে সজোরে ধাক্কা লেগে এটি ফেটে যেতে পারে।
-
বার্ধক্যজনিত কারণ: দশকের পর দশক মহাকাশের তীব্র ঠান্ডা ও গরমে স্যাটেলাইটের ভেতরে থাকা পুরোনো ব্যাটারি বা প্রোপেল্যান্ট ফেটে গিয়ে থাকতে পারে। ঠিক যেমনটি ঘটেছিল ২০২১ সালের NOAA-17 স্যাটেলাইটের ক্ষেত্রে।
-
মহাকাশ আক্রমণ: সবচেয়ে বেশি যে আশঙ্কাটি ঘুরপাক খাচ্ছে, তা হলো কোনো গোপন অস্ত্র বা স্যাটেলাইট প্রতিরোধী প্রযুক্তির সাহায্যে এটিকে ধ্বংস করা হয়েছে কি না। সম্প্রতি মার্কিন মহাকাশবাহিনীর পক্ষ থেকেও মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েনের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল, যা এই জল্পনাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
বাড়ছে বড় বিপদের আশঙ্কা যেহেতু পৃথিবীর কক্ষপথের নিম্নভাগে এই বিস্ফোরণটি ঘটেছে এবং ওই অঞ্চলে দুইশোরও বেশি সক্রিয় স্যাটেলাইট রয়েছে, তাই এই হাজার হাজার টুকরো ধ্বংসাবশেষ অন্য মূল্যবান কৃত্রিম উপগ্রহগুলোর জন্যও এক মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। আসল কারণ উদঘাটনে রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সাহায্য নেওয়া হলেও, এর প্রকৃত রহস্য উন্মোচনে বেশ কয়েক বছর সময় লেগে যেতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।