জাপানের বাথরুমে ঢুকে কান্না আটকে রাখতে পারলেন না ভারতীয় নারী! কী এমন ছিল সেখানে? ভিডিও তোলপাড় নেটপাড়া!

সাধারণত ঘরের বাইরে পা রাখলে গণশৌচাগার বা পাবলিক টয়লেট ব্যবহার করা নিয়ে নারীদের দুশ্চিন্তার শেষ থাকে না। অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ, সুরক্ষার অভাব এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার অনুপস্থিতির কারণে পাবলিক টয়লেট এড়িয়েই চলেন অধিকাংশ নারী। তবে সূর্যোদয়ের দেশ জাপান যেন এই সাধারণ ধারণাকে একেবারে দুমড়ে-মুচড়ে দিয়েছে। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, জাপানের একটি সাধারণ পাবলিক টয়লেটের অসামান্য বন্দোবস্ত এবং সূক্ষ্ম পরিষেবা দেখে রীতিমতো আবেগে ভেসেছেন এক প্রবাসী ভারতীয় নারী।

কী রয়েছে সেই ভিডিওতে? টয়লেট ব্যবহারের অভিজ্ঞতা যে এতটাও স্বস্তিদায়ক এবং অভাবনীয় হতে পারে, তা ভাবতেও পারেননি জাপানে বসবাসকারী ভারতীয় কন্টেন্ট ক্রিয়েটর অঙ্কিতা সেহগাল (@sahigal.ankita)। সম্প্রতি নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে জাপানের একটি পাবলিক টয়লেটের ভেতরের দৃশ্য শেয়ার করেছেন তিনি। ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে, টয়লেটের প্রতিটি কোণে নারীদের দৈনন্দিন চাহিদার কথা মাথায় রেখে কত গভীর চিন্তাভাবনা করা হয়েছে।

অঙ্কিতা ভিডিওতে ব্যাখ্যা করে দেখান, জাপানের সবচেয়ে সাধারণ ও ছোট পাবলিক বাথরুমগুলোতেও কেবল শৌচকর্মের সুবিধাই নয়, বরং নারীদের সাজগোজের জন্য রয়েছে একটি পৃথক সুসজ্জিত আয়না এবং বিশেষ ‘মেেকআপ কাউন্টার’। এখানেই শেষ নয়, যে সব মায়েরা কোলে ছোট শিশু নিয়ে বাইরে বের হন, তাঁদের সুবিধার জন্য শৌচাগারের ভেতরেই তৈরি করা হয়েছে একটি বিশেষ নিরাপদ আসন। মায়েরা যখন নিজে বাথরুম ব্যবহার করছেন, তখন সন্তানকে নিরাপদে ও কোনো ঝামেলা ছাড়াই সেখানে বসিয়ে রাখা সম্ভব।

সবচেয়ে বড় চমক: অভিনব ‘চেঞ্জিং বোর্ড’ তবে ভিডিওটির যে অংশটি সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে, তা হলো দেয়ালে ভাঁজ করে রাখা একটি বিশেষ প্লাস্টিক বোর্ড। অঙ্কিতা প্রথমে ভেবেছিলেন এটি হয়তো শিশুদের ডায়াপার পাল্টানোর জন্য তৈরি। কিন্তু আসলে এটি হলো এক অনন্য ‘চেঞ্জিং বোর্ড’।

বাইরে থেকে এসে কোনো নারী যদি তাঁর পোশাক কিংবা জুতো পরিবর্তন করতে চান, তবে তিনি এই বোডে়র ওপর সোজা দাঁড়িয়ে পড়তে পারেন। ফলে বাথরুমের মেঝে যদি নোংরা বা ভেজাও থাকে, তবুও পোশাক বা পা না ভিজিয়ে খুব সহজেই পরিচ্ছন্নভাবে জামাকাপড় বদলে ফেলা যায়। সামান্য একটি পাবলিক টয়লেটে নাগরিকদের জন্য এমন সূক্ষ্ম চিন্তাভাবনা দেখে নিজেদের আবেগ ধরে রাখতে পারেননি অঙ্কিতা।

নেটিজেনদের প্রতিক্রিয়া ও তোলপাড় ভিডিওটি পোস্ট করে অঙ্কিতা লেখেন, “এই মানুষগুলো নিজেদের দেশের নাগরিকদের নিয়ে এত সূক্ষ্মভাবে চিন্তা করে কীভাবে? একটা দেশ কীভাবে তাঁর দেশের নারীদের এত সম্মান ও সুবিধা দিতে পারে?”

ভিডিওটি পোস্ট হতেই তা হু হু করে ছড়িয়ে পড়ে নেটপাড়ায়। লক্ষ লক্ষ মানুষ ভিডিওটি দেখেছেন এবং হাজার হাজার কমেন্ট জমা পড়েছে। নেটিজেনদের একটি বড় অংশ জাপানের নাগরিক সুবিধার প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন। অনেকেই মন্তব্য করেছেন,

Rick Sarkar
  • Rick Sarkar

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *