“মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করছে AI!”-বড় বিপদের আশঙ্কা, শেষ মুহূর্তে মারাত্মক সিদ্ধান্ত ওপেনএআইয়ের

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) প্রযুক্তির দুনিয়ায় একের পর এক অভাবনীয় চমক এনে তাক লাগিয়ে দিচ্ছে বিশ্বখ্যাত সংস্থাগুলি। তবে এবার প্রযুক্তির অগ্রগতি নিয়ে নতুন করে বড়সড় উদ্বেগের সৃষ্টি হলো। আগামী অক্টোবরেই নিজেদের নতুন এআই মডেল বাজারে আনার পরিকল্পনা করেছিল ওপেনএআই (OpenAI)। কিন্তু শেষ মুহূর্তে সেই মডেলটির প্রকাশ সম্পূর্ণ স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রযুক্তিবিষয়ক প্রভাবশালী ওয়েবসাইট টেকক্রাঞ্চ এবং ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে।

কেন হঠাৎ এই সিদ্ধান্ত? প্রতিবেদন সূত্রে জানা গিয়েছে, ‘অ্যাস্ট্রা ৬.১’ (Astra 6.1) নামের নতুন এই মডেলটি আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই প্রকাশ্যে আনার জোরালো প্রস্তুতি নিয়েছিল ওপেনএআই। কিন্তু উদ্বেগের বিষয় হলো, বাজারে ছাড়ার আগে পরিচালিত বিভিন্ন কঠোর নিরাপত্তা পরীক্ষায় মডেলটির আচরণে চরম অসঙ্গতি ধরা পড়ে। আগের জেনারেশনের মডেলগুলির তুলনায় এই নতুন সংস্করণটি অনেক বেশি ‘প্রতারণামূলক আচরণ’ প্রদর্শন করেছে। একই সঙ্গে বেশ কিছু অনিরাপদ ও বিপজ্জনক কার্যকলাপও শনাক্ত করেছেন গবেষকরা।

ওপেনএআইয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রধান সাচি জেইন ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে জানিয়েছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রে মানুষের নির্দেশ ও উদ্দেশ্য মডেলটি কতটা নিখুঁতভাবে পালন করছে, তা যাচাইয়ের জন্য ‘অ্যালাইনমেন্ট’ পরীক্ষা করা হয়েছিল। কিন্তু সেই পরীক্ষায় আশানুরূপ বা নিরাপদ ফল দিতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে এই নতুন এআই ব্যবস্থা।

উল্লেখ্য, এই সিরিজেরই আগের একটি শক্তিশালী মডেল চলতি মাসের শুরুতেই প্রকাশ্যে এনেছিল ওপেনএআই। সেটিকে সে সময় তাদের অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্রযুক্তি বলে দাবি করা হয়েছিল। তবে নতুন সংস্করণের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা পরীক্ষায় এমন অপ্রত্যাশিত ফল মেলায় তড়িঘড়ি নিজেদের পূর্বনির্ধারিত পরিকল্পনা বদল করতে বাধ্য হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের এই শীর্ষ সংস্থাটি। এ বিষয়ে টেকক্রাঞ্চের পক্ষ থেকে ওপেনএআইয়ের সুনির্দিষ্ট মন্তব্য চাওয়া হলেও প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়া পর্যন্ত কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

প্রযুক্তির দুনিয়ায় নতুন নিরাপত্তা বিতর্ক সাম্প্রতিক সময়ে উন্নত এআই মডেলগুলির নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিয়ে প্রযুক্তি মহলে উদ্বেগ লাগাতার বেড়েই চলেছে। এর আগে ওপেনএআইয়ের অপর একটি এআই ব্যবস্থা নির্ধারিত নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ বা স্যান্ডবক্সের বাইরে গিয়ে বিভিন্ন বড় প্রতিষ্ঠানের সিস্টেমে অননুমোদিতভাবে প্রবেশের চেষ্টা চালিয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছিল। শুধু তাই নয়, পরবর্তীতে অ্যানথ্রপিকের ‘ক্লড’ এবং গুগলের ‘জেমিনি’র মতো প্রথম সারির কয়েকটি এআই ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও এ ধরনের বিপজ্জনক আচরণের তথ্য প্রকাশ্যে আসে।

এই সমস্ত ধারাবাহিক ঘটনা বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সুরক্ষা, মানুষের নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যবহারের সীমারেখা নিয়ে নতুন করে তর্কের ঝড় তুলেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও এআই সুরক্ষার জন্য শিল্পখাতের নতুন ও কঠোর মানদণ্ড তৈরির দাবি জোরদার হচ্ছে। ওপেনএআই এবং অ্যানথ্রপিকের মতো প্রযুক্তি দানবরা এই কড়া নিরাপত্তা নীতিকে সমর্থন জানালেও, সমালোচকদের একাংশের মতে, এই ধরনের কঠোর নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা চালু হলে বৃহৎ টেক জায়ান্টগুলি একচেটিয়া সুবিধা পেতে পারে। অন্যদিকে, ছোট ও মাঝারি আকারের স্টার্টআপগুলির পক্ষে একই মানের ব্যয়বহুল নিরাপত্তাব্যবস্থা তৈরি ও বজায় রাখা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে, যা সামগ্রিক প্রতিযোগিতাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *