বাংলায় CPIM-কংগ্রেসের সঙ্গে মমতার জোট কি সম্ভব? জেনেনিন কি বলছে পরিস্থিতি

দলীয় প্রতীক ও অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার লড়াইয়ে ব্যাকফুটে থাকা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কেন্দ্র করে বাংলার রাজনীতিতে ফের নতুন এক সমীকরণের গুঞ্জন শুরু হয়েছে। একদিকে যখন নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনে কংগ্রেস প্রার্থীকে সমর্থন এবং অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবি ঘিরে সিপিএমের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক এমএ বেবির সঙ্গে ফোনালাপ ও পত্রালাপ— সব মিলিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, তবে কি বিজেপির বিরুদ্ধে বৃহত্তর লড়াইয়ে এবার পুরনো সব তিক্ততা ভুলে এক ছাতার নিচে আসতে চলেছে বাম, কংগ্রেস এবং তৃণমূল? অদূর ভবিষ্যতে কি তবে কোনো নতুন রাজনৈতিক জোটের রূপরেখা তৈরি হচ্ছে?

চর্চার সূত্রপাত কোথায়? মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ এবং বৈধ ভোটারদের তালিকা সংশোধনের দাবিতে সরব হয়েছেন বিরোধীরা। এই ইস্যুতে সমস্ত বিরোধী দলকে একজোট হওয়ার আহ্বান জানিয়ে চিঠি পাঠিয়েছিলেন সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এমএ বেবি। এমনকী, অরবিন্দ কেজরিওয়ালের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন তিনি। খাস বাংলায় দুই বিধানসভা উপনির্বাচনের প্রচারের ব্যস্ততার মাঝেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে এমএ বেবির এই যোগাযোগ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে যায়।

এ বিষয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এই মুহূর্তে তিনি রঙের বিচার করতে রাজি নন। তাঁর সাফ কথা, দেশ বাঁচাতে এবং সংবিধান রক্ষায় কে কোন দল বা কোন রঙের, তা দেখা তাঁর কাছে মুখ্য নয়। আগামী ৩০ ডিসেম্বর দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে প্রতিবাদী মিটিংয়ের ডাক দেওয়া হয়েছে, যেখানে রাহুল গান্ধী থেকে শুরু করে সমস্ত বিরোধী শক্তিকে এক মঞ্চে সামিল হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

কী বলছে বাম ও কংগ্রেস শিবির? এই গুঞ্জনের মাঝেই জল মাপতে আসরে নেমে পড়েছেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, দেশের সংবিধান ও নির্বাচন কমিশন যখন আক্রান্ত, তখন অ-বিজেপি দলগুলিকে চিঠি দিয়ে লড়াইয়ের ডাক দেওয়া হয়েছে। এর অর্থ এই নয় যে তৃণমূলের সঙ্গে কোনো নির্বাচনী বোঝাপড়া বা জোট পাকা হয়ে গিয়েছে। অতীতে রাজ্যে তৃণমূলের মাধ্যমেই বিজেপির উত্থান হয়েছিল বলে স্মরণ করিয়ে দিয়ে সেলিম জানিয়েছেন, রাজনীতির ময়দানে আন্দোলন আটকানো যায় না, মমতা পথে নামলে তাঁর দল নামতেই পারে, কিন্তু তার সঙ্গে সিপিএমের জোটের কোনো দূরতম সম্পর্ক নেই।

অন্যদিকে, কংগ্রেস মুখপাত্র সুমন রায়চৌধুরী মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে দেশজুড়ে সংবিধান বাঁচানোর লড়াই চলছে। যদি কেউ কংগ্রেসের ছাতার তলায় আসতে চায়, তবে স্বাগত। তবে রাজ্যে জোট হবে কি না, সেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন হাইকমান্ড। যদিও ‘রাজনীতি সম্ভাবনার শিল্প’— এই তত্ত্বকে উড়িয়ে দিচ্ছেন না কংগ্রেসের এই নেতা। রাজনৈতিক বিশ্লেষক শুভময় মৈত্রের মতে, রাজনীতি কখনও সরলরৈখিক নয়। অতীতেও বৈরী সম্পর্ক ভুলে কেন্দ্রের স্বার্থে বা জোটের অঙ্কে রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে যাওয়ার বহু নজির রয়েছে। তৃণমূলের বর্তমান পরিস্থিতিতে এই আলোচনা নতুন কোনো মোড় নেয় কিনা, এখন সেটাই দেখার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *