ঘোড়ায় আগমন আর নৌকায় গমন! ২০২৬-এর দুর্গোৎসবে কোন মহা-বিপদের আভাস দিচ্ছে পঞ্জিকা? ষোলো কলা পূর্ণ করতে আসছে দুর্গোৎসব! কোন অশুভ যোগ এড়িয়ে এবার নৌকায় কৈলাসে ফিরবেন

কড়া নাড়ছে শরৎকাল, আর দরজায় কড়া নাড়ছে বাঙালির প্রাণের উৎসব দুর্গাপুজো ২০২৬। ইতিমধ্যেই কুমোরটুলিতে প্রতিমা তৈরির শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা তুঙ্গে, পাড়ায় পাড়ায় প্যান্ডেলের বাঁশ পড়ার শব্দ শোনা যাচ্ছে এবং শপিং মলগুলোতেও উপচে পড়ছে ভিড়। আর মাত্র কয়েকটা দিনের অপেক্ষা, আগামী ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠী। তার ঠিক আগে আগামী ১০ অক্টোবর শনিবার মহালয়ার পবিত্র তর্পণের মাধ্যমেই আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়ে যাবে পুণ্য দেবীপক্ষ। তবে প্রতি বছরের মতো এবারও মা দুর্গার মর্ত্যে আগমন এবং কৈলাসে প্রত্যাবর্তনের বাহন ও তার ফলাফল নিয়ে সাধারণ মানুষের কৌতূহলের অন্ত নেই। পঞ্জিকা মতে এবার কী বার্তা দিচ্ছে দেবীর বাহন?
কীসে চড়ে মর্ত্যে আসছেন মা দুর্গা?
শাস্ত্র ও পঞ্জিকার হিসেব অনুযায়ী, সপ্তমী তিথি সপ্তাহের ঠিক যে বারে পড়ে, তার ওপর নির্ভর করেই নির্ধারিত হয় দেবী দুর্গার বাহন। প্রাচীন নিয়ম বলছে—সপ্তমী যদি রবি বা সোমবার হয়, তবে মা আসেন হাতিতে। বৃহস্পতি বা শুক্রবার হলে মা মর্ত্যে আসেন দোলা বা পালকিতে। যদি বুধবার সপ্তমী পড়ে, তবে বাহন হয় নৌকা। আর যদি শনি বা মঙ্গলবার সপ্তমী পড়ে, তবে মায়ের বাহন হিসেবে নির্ধারিত হয় ঘোড়া।
চলতি ২০২৬ সালে ১৭ ও ১৮ অক্টোবর—দু’দিন ধরে সপ্তমী তিথি রয়েছে। তবে বিশুদ্ধ পঞ্জিকা মতে প্রথম সপ্তমী, অর্থাৎ ১৭ অক্টোবর শনিবারকেই মায়ের আগমনের দিন হিসেবে ধরা হচ্ছে। যেহেতু দিনটি শনিবার, তাই এ বছর মা দুর্গার আগমন ঘটছে ঘোড়ায় চড়ে।
শাস্ত্র মতে, মা দুর্গার ঘোড়ায় চড়ে মর্ত্যে আসার ফল অত্যন্ত অশুভ ও উদ্বেগের। এর মূল অর্থ হলো “ছত্র ভঙ্গ স্তুরঙ্গমে”—যার সহজ বাংলা করলে দাঁড়ায় সমাজে রাজনৈতিক, সামাজিক বা সামরিক অস্থিরতা বৃদ্ধি পাওয়া। এমনকি বড় ধরনের ধ্বংস বা অশান্তির পরিবেশ তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না পঞ্জিকার বিশারদরা।
নৌকায় কৈলাসে প্রত্যাবর্তন
আসার বাহনের মতো দেবীর বিদায় বা কৈলাসে ফিরে যাওয়ার বাহনটিও নির্ভর করে বিজয়া দশমীর বারের ওপর। এই বছর ২১ অক্টোবর, বুধবার পড়েছে বিজয়া দশমী। নিয়ম অনুযায়ী, দশমী তিথি বুধবার হওয়ায় মা মর্ত্য ছেড়ে কৈলাসে ফিরবেন নৌকায় চড়ে।
তবে স্বস্তির বিষয় হলো, পঞ্জিকার নিয়ম অনুযায়ী কোনো বছরই মায়ের আগমন ও গমনের বাহন এক হওয়া ভালো নয়; কিন্তু এ বছর দেবীর আসা ও যাওয়ার বাহন সম্পূর্ণ আলাদা। অর্থাৎ ঘোড়ায় আসার পর মা ফিরছেন নৌকায়।
নৌকায় দেবীর প্রত্যাবর্তনের ফল হিসেবে শাস্ত্রে বলা হয়েছে “শস্য বুদ্ধিস্তথাজলম”। এর অর্থ হলো, আগামী দিনে পৃথিবীতে প্রচুর শস্য ফলবে, চারপাশ সবুজে ভরে উঠবে এবং মানুষের বহুদিনের মনস্কামনা পূর্ণ হবে। তবে এর পাশাপাশি একটি নেতিবাচক দিকও রয়েছে। নৌকার ফলেই অতিরিক্ত বৃষ্টির জেরে নদীমাতৃক অঞ্চলে বন্যা বা জলমগ্ন হওয়ার প্রবল আশঙ্কাও থেকে যায়।
এক নজরে ২০২৬ পুজোর নির্ঘণ্ট
শাস্ত্রের এই নানাবিধ হিসাব-নিকাশ আর ভালো-মন্দের দোলাচলকে পেছনে ফেলে বাঙালির সবথেকে বড়ো উৎসবে মেতে ওঠার অপেক্ষা এখন সময়ের মাত্র কয়েকটা দিন। এক নজরে দেখে নিন এই বছরের দুর্গাপুজোর সম্পূর্ণ ক্যালেন্ডার:
মহালয়া: ১০ অক্টোবর (শনিবার)
মহাষষ্ঠী: ১৬ অক্টোবর
মহাসপ্তমী: ১৭ ও ১৮ অক্টোবর
মহাষ্টমী: ১৯ অক্টোবর
মহানবমী: ২০ অক্টোবর
বিজয়া দশমী: ২১ অক্টোবর