বিশ্বকর্মা পুজোর চাঁদার নামে জুলুম! বিএমএস নেতার অফিস ঘিরে ধরে ধুন্ধুমার কাণ্ড, টেনেহিঁচড়ে বের করল বিজেপি

বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকার দোকানদারদের কাছ থেকে জোর করে তোলা আদায় করার অভিযোগ উঠল এক স্থানীয় নেতার বিরুদ্ধে। নিজেকে ভারতীয় মজদুর সঙ্ঘের (BMS) শহিদ মাতঙ্গিনী ব্লকের সভাপতি বলে পরিচয় দেওয়া গোপাল মণ্ডল এবং তাঁর দুই সহযোগী শেখ সুম্বানি ওরফে জুম্মন ও শেখ মতির বিরুদ্ধে এই সন্ত্রাসের অভিযোগ তুলেছেন ব্যবসায়ীরা। বিশ্বকর্মা পুজোর নাম করে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা এবং সেই টাকা না দিলে ব্যবসায়ীদের বেধড়ক মারধর করার অভিযোগ রয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে।
মেচেদা বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকাতেই একটি অফিস রয়েছে গোপাল মণ্ডলের। স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই দুই সহযোগীকে সঙ্গে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিলেন তিনি। গতকাল ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়ার পরই নড়েচড়ে বসে পুলিশ। দ্রুত পদক্ষেপ করে গোপাল মণ্ডলের দুই সহযোগী শেখ সুম্বানি ও শেখ মতিকে গ্রেফতার করে তাঁরা। এই ঘটনায় গোটা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।
তবে এখানেই শেষ নয়, পুলিশের পাশাপাশি আসরে নামে রাজনৈতিক দলও। গতকাল রাতেই মেচেদায় গোপাল মণ্ডলের ওই অফিসে চড়াও হন বিজেপি নেতা-কর্মীরা। অভিযোগ, অফিস থেকে গোপাল মণ্ডলকে টেনে-হিঁচড়ে ও ধাক্কাধাক্কি করে বাইরে বের করে দেওয়া হয়। এরপর তাঁর সেই অফিসে তালা ঝুলিয়ে দেন ক্ষুব্ধ কর্মীরা।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পরবর্তীতে বিজেপি নেতৃত্বের তরফে মাইক প্রচার চালিয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়, কাউকেই যেন কোনো রকম তোলা বা চাঁদা না দেওয়া হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্তমানে মেচেদা বাসস্ট্যান্ড ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকায় তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা বিরাজ করছে।