মুহূর্তে কালো ধোঁয়ায় ঢেকে গেল আকাশ! সুরাটের টেক্সটাইল মার্কেটে ভয়াবহ আগুন, আহত দমকলকর্মী

পুজোর মরশুমের আগে ফের এক বড়সড় অগ্নিকাণ্ডের সাক্ষী রইল গুজরাটের সুরাট। সোমবার সন্ধ্যায় সারোলি এলাকার অন্যতম ব্যস্ত ও বিখ্যাত ‘সঙ্গিনী টেক্সটাইল হাব’ মার্কেটে হঠাৎই আগুন লেগে যায়। মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের জেরে গোটা এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দূরদূরান্ত থেকে আকাশে ঘন কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে ছুটে যায় দমকল বাহিনীর একাধিক ইঞ্জিন। আগুন নেভানোর এই লড়াইয়ে এক দমকলকর্মী আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।
দ্বিতীয় তলায় বিধ্বংসী আগুন
প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সন্ধ্যার দিকে সঙ্গিনী টেক্সটাইল মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় হঠাৎই আগুনের শিখা ও ধোঁয়া দেখতে পান স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। যেহেতু টেক্সটাইল মার্কেটে প্রচুর পরিমাণে কাপড়, সুতো এবং অন্যান্য দাহ্য পদার্থ মজুত থাকে, তাই মুহূর্তের মধ্যে আগুন চারপাশে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। ঘন কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় চারপাশ। খবর পাওয়া মাত্রই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকল বাহিনী।
আগুন নেভাতে গিয়ে দমকলের এক কর্মী আহত হন। তাঁকে দ্রুত চিকিৎসার জন্য স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। দীর্ঘক্ষণের প্রচেষ্টায় দমকল কর্মীরা আগুনকে বাজারের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়া থেকে আটকাতে সক্ষম হন। তবে ঠিক কী কারণে এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত ঘটল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। দমকল বিভাগ এবং স্থানীয় প্রশাসন যৌথভাবে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।
টেক্সটাইল বাজারে বারবার অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি কেন?
বস্তুত, দেশের বড় বড় কাপড়ের বাজার বা টেক্সটাইল হাবগুলিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা নতুন নয়। দোকান ও গুদামগুলিতে বিপুল পরিমাণ দাহ্য পদার্থ থাকায় সামান্য শর্ট সার্কিট বা বৈদ্যুতিক গোলযোগ বড় বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অতিরিক্ত তারের ব্যবহার এবং অনেক ক্ষেত্রে অপর্যাপ্ত অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে এই ঝুঁকি আরও বহুগুণ বেড়ে যায়। সংকীর্ণ রাস্তা এবং জনাকীর্ণ দোকানপাট উদ্ধারকাজকেও অনেক সময় কঠিন করে তোলে।
উল্লেখ্য, এদিন সুরাটের কামরেজ এলাকায় মানসরোবর রেসিডেন্সির একটি ফ্ল্যাটে এলপিজি গ্যাস লিক করে আগুন লাগার আরও একটি পৃথক ঘটনা ঘটে। সেখানেও আগুনে ঘরের সমস্ত জিনিসপত্র পুড়ে ছাই হয়ে যায় এবং এক প্রবীণ ব্যক্তি গুরুতর দগ্ধ হন। পরপর এই ধরনের দুর্ঘটনাগুলি বাজার ও সাধারণ আবাসিক এলাকাগুলোতে অগ্নিসুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে কড়া সতর্কতা অবলম্বনের বার্তা দিচ্ছে।