বেতন বাড়বে না অথচ পকেটে আসবে টাকা! সরকারি কর্মচারীদের জন্য জানুন এই চমকপ্রদ নিয়ম

চাকরিজীবীদের কাছে ইনক্রিমেন্ট বললেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে মাইনে বৃদ্ধির ছবি। কিন্তু সরকারি দপ্তরে প্রায়শই কান পাতলে শোনা যায় এক অদ্ভুত শব্দ, যার নাম ‘নোশনাল ইনক্রিমেন্ট’। নামটা নতুন ঠেকলেও এর অর্থ অনেকেই ঠিকমতো জানেন না। অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে, বেতন না বাড়লে আবার ইনক্রিমেন্ট হয় কী করে? আসুন, খুব সহজ এবং জলের মতো পরিষ্কার ভাষায় গোটা বিষয়টি বুঝে নেওয়া যাক।
সাধারণত প্রতি বছর একটি নির্দিষ্ট তারিখে কর্মীরা তাঁদের বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট বা বেতন বৃদ্ধি পেয়ে থাকেন। তবে কিছু নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে কর্মীর হাতে বাড়তি টাকা তুলে না দিয়ে, শুধুমাত্র খাতায়-কলমে বা তাত্ত্বিকভাবে সেই ইনক্রিমেন্ট দেখিয়ে দেওয়া হয়। একেই পোশাকি ভাষায় বলা হয় নোশনাল ইনক্রিমেন্ট।
সহজ একটা উদাহরণ দিলে বিষয়টি পরিষ্কার হবে। ধরা যাক, কোনো সরকারি কর্মীর মূল বেতন বা বেসিক পে ৩০,০০০ টাকা এবং তাঁর বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট ১,০০০ টাকা। ১ জুলাই তাঁর ইনক্রিমেন্ট পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কোনো কারণে তিনি ৩০ জুন চাকরি থেকে অবসর নিলেন। এমন পরিস্থিতিতে নিয়ম অনুযায়ী, ১ জুলাইয়ের ওই ইনক্রিমেন্টকে ‘নোশনাল’ বা কাল্পনিক হিসেবে ধরা হতে পারে।
এর মানে এই নয় যে তিনি জুলাই মাসের বেস্টে বা পকেটে অতিরিক্ত এক হাজার টাকা হাতে পাবেন। বরং তাঁর পে ফিক্সেশন, পেনশন কিংবা অবসরের অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার হিসাব করার সময় ওই ইনক্রিমেন্টের অঙ্কটি যোগ করা হয়। তবে মাথায় রাখবেন, সব কর্মচারী নিজে থেকেই এই সুবিধা পাবেন এমন কোনো কথা নেই।
পুরো বিষয়টি নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট সরকারি নির্দেশিকা, সার্ভিস রুলস এবং আদালতের বিভিন্ন রায়ের ওপর। সহজ কথায়, নোশনাল ইনক্রিমেন্ট মানে হাতে নগদ টাকা পাওয়া নয়, বরং ভবিষ্যতে কোনো নির্দিষ্ট আর্থিক সুবিধার জন্য ইনক্রিমেন্টটিকে হিসেবে ধরে নেওয়া। তাই কেউ যদি বলেন তিনি নোotional ইনক্রিমেন্ট পেয়েছেন, তার মানে এই নয় যে তাঁর চলতি মাসের বেতন সঙ্গে সঙ্গে বেড়ে গেছে। কোন সুবিধার জন্য এবং কোন তারিখ থেকে এই হিসাব ধরা হবে, তা পুরোপুরি নির্ভর করে দপ্তরের নির্দিষ্ট নিয়মের ওপর।