যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব সোজা খারিজ ট্রাম্পের! মধ্যপ্রাচ্যে নতুন মোড়, চরম উত্তেজনার নেপথ্যে আসল কারণ কী?

পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধাবসানের জন্য ইরানের পেশ করা নতুন শান্তি প্রস্তাব শেষমেশ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রাষ্ট্রপুঞ্জে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের কথা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে হোয়াইট হাউস। মার্কিন প্রশাসনের দাবি, শান্তি আলোচনার টেবিলে বসার জন্য তেহরান অত্যন্ত ‘অত্যধিক ও অযৌক্তিক ছাড়’ দাবি করছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মাইক ওয়াল্টজ জানান, আলোচনার শুরুতেই ইরান একগাদা শর্তের বোঝা চাপিয়েছে। এর মধ্যে মার্কিন নৌঅবরোধ প্রত্যাহার, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা এবং অবরুদ্ধ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ মুক্তির মতো কঠিন শর্ত রয়েছে। ইরানের এই প্রস্তাবের মধ্যে অসৎ উদ্দেশ্য ও চাতুর্য রয়েছে বলে মনে করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এমনকি ট্রাম্প স্পষ্ট ভাষায় মন্তব্য করেছেন যে, তেহরান বর্তমানে যুদ্ধে হেরে যাওয়ার ফলেই এই ধরনের চুক্তির পথ খুঁজছে। অতীতে শান্তিচুক্তিতে সই হলেও ইরানি নেতৃত্বের প্রতি ওয়াশিংটনের আর বিন্দুমাত্র ভরসা নেই। তবে যুদ্ধ শেষ পর্যন্ত কোনো না কোনো চুক্তির মাধ্যমেই থামবে—এই সত্য মেনে নিয়ে ট্রাম্প আলোচনার পথ সম্পূর্ণ বন্ধ করছেন না বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন মাইক।

উল্লেখ্য, গত সপ্তাহেই ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরঘাচি রাষ্ট্রপুঞ্জে নতুন করে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব রেখেছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, আমেরিকা তাদের অবরুদ্ধ সম্পদ মুক্তি দিলে এবং অবরোধ তুলে নিলে জ্বালানি পরিবহণের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পথ ‘হরমুজ প্রণালী’ আবার খুলে দেওয়া হবে। তবে ট্রাম্পের এই প্রত্যাখ্যানের পর আব্বাস আরঘাচি মার্কিন সমস্ত অভিযোগ অসত্য বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর পালটা দাবি, তাঁদের এই শর্তগুলি কোনোভাবেই অবাস্তব নয়, বরং এগুলি তাঁদের ন্যায্য অধিকার। বিগত দুই বছরের মার্কিন প্রশাসনের নীতি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন তিনি। এর মাঝেই আবার নিউজ পোর্টাল ‘অ্যাক্সিওস’-এর সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে যে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আগামী সোমবারের মধ্যেই মধ্যস্থতার নতুন দফা আলোচনা শুরু হতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *