‘ব্যক্তিগত আইনের দোহাই দিলেই পকসো আইন থেকে রেহাই নেই!’ নাবালিকা স্ত্রীকে নিয়ে দিল্লি হাইকোর্টের কোন রায়ে তোলপাড়?

মুসলিম ব্যক্তিগত আইনের (Muslim Personal Law) দোহাই দিয়ে নাবালিকা স্ত্রীর সঙ্গে যৌন সম্পর্কের আইনি দায় থেকে রেহাই পাওয়া যাবে কি না, সেই বিষয়ে অত্যন্ত কড়া ও স্পষ্ট অবস্থান নিল দিল্লি হাইকোর্ট। আদালত সাফ জানিয়ে দিয়েছে, ফৌজদারি আইনের অপরাধ থেকে বাঁচার জন্য ব্যক্তিগত আইনের আশ্রয় নেওয়া যায় না। যদি প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষকে ব্যক্তিগত আইনে স্বীকৃত বিয়ের অজুহাতে ১৮ বছরের কম বয়সি মেয়ের সঙ্গে জড়িত মামলায় ছাড় দেওয়া হয়, তবে তা পকসো (POCSO) আইনের মূল উদ্দেশ্যকেই সম্পূর্ণ ব্যর্থ করে দেবে। বিচারপতি সঞ্জীব নারুলার বেঞ্চ এই গুরুত্বপূর্ণ রায়টি দিয়েছেন।
মামলার পটভূমি ও আইনি লড়াই: পিটিআই-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৮ বছর বয়সি এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ১৬ বছর তিন মাস বয়সি এক নাবালিকা স্ত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে পকসো আইনে মামলা দায়ের হয়েছিল। দুই পরিবারের সম্মতিতে তাদের বিয়ে হওয়ার পর তারা একসঙ্গে বসবাস শুরু করে এবং পরবর্তীতে মেয়েটি গর্ভবতী হলে একটি সরকারি হাসপাতালে গেলে তার প্রকৃত বয়স প্রকাশ্যে আসে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পুলিশকে খবর দিলে মামলা দায়ের হয়। পুলিশি জবানবন্দিতে মেয়েটি জানায় যে, পরিবারের সম্মতিতে প্রাপ্তবয়স্ক অবস্থাতেই তাদের বিয়ে হয়েছে এবং সে স্বেচ্ছায় স্বামীর সঙ্গে রয়েছে। এমনকি স্বামীর জামিনের পক্ষেও সওয়াল করে সে।
আদালতের কঠোর পর্যবেক্ষণ: দম্পতি ও তাদের আইনজীবীর পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হয়েছিল যে, মুসলিম ব্যক্তিগত আইন অনুযায়ী একজন মুসলিম মেয়ে প্রাপ্তবয়স্ক হলেই বিয়ের যোগ্য এবং যেহেতু সেই বিবাহ বৈধ, তাই পরবর্তীকালে তাদের মধ্যকার যৌন সম্পর্ক কোনো অপরাধমূলক দায় সৃষ্টি করে না। কিন্তু এই যুক্তি সম্পূর্ণ খারিজ করে দিয়েছে দিল্লি হাইকোর্ট। আদালত অত্যন্ত কঠোর ভাষায় জানিয়েছে যে, ব্যক্তিগত আইনের কথা বলে পকসো আইনের কঠোর ধারা থেকে কাউকে কোনো ছাড় দেওয়া সম্ভব নয়। এই ঐতিহাসিক রায় দেশের শিশু সুরক্ষা আইন ও পকসো আইনের পরিধিকে আরও শক্তিশালী করবে বলেই মনে করছেন আইনি বিশেষজ্ঞরা।