‘হাতে আর বেশি সময় নেই!’ সোনা ও রুপার বাজারে কি বড় পতনের ঝড় আসছে? বিনিয়োগকারীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ

গত কয়েক দিন ধরেই সোনা ও রুপার বাজারে বেশ বড় ধরনের দরপতন দেখা গেছে। গত সপ্তাহে মাল্টি কমোডিটি এক্সচেঞ্জে (এমসিএক্স) সোনার দাম প্রায় ২.৫ শতাংশ কমে যাওয়ার পাশাপাশি রুপার দামও প্রায় ৬,৯০০ টাকা পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারেও বুলিয়নের দাম আউন্স প্রতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীদের মনে একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে—তবে কি সোনা-রুপার বাজারে আরও বড় ধস নামতে চলেছে?

মূল দামের পতন ও বর্তমান পরিস্থিতি: বিশ্লেষকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে এমসিএক্স-এ অক্টোবর ডেলিভারির সোনার ফিউচার প্রতি ১০ গ্রামে ১.৫ লক্ষ টাকার কাছাকাছি নেমে এসেছে এবং রুপার ফিউচার প্রতি কিলোগ্রামে ২.৩৪ লক্ষ টাকায় দাঁড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারেও কমেক্স গোল্ড ফিউচার প্রতি আউন্সে ৪,৩২১ ডলারে নেমে এসেছে। শক্তিশালী মার্কিন ডলার এবং ডলার সূচকের ১০১-এর উপরে অবস্থান সোনা ও রুপার চাহিদার ওপর মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করছে।

অস্থিরতার নেপথ্য কারণগুলি কী কী? বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী দিনে সোনা ও রুপার দামের ওঠানামা মূলত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর নির্ভর করবে:

  • মার্কিন অর্থনৈতিক তথ্য ও মুদ্রাস্ফীতি: আসন্ন মার্কিন নন-ফার্ম পেরোলস রিপোর্ট, বেকারত্বের হার এবং ফেডারেল রিজার্ভের মুদ্রানীতি সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত বাজারের গতিপ্রকৃতি নির্ধারণ করবে।

  • ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা: পশ্চিম এশিয়ার চলমান উত্তেজনা এবং আমেরিকা-ইরান সম্পর্কের টানাপোড়েন বিশ্ব বাজারে অস্থিরতা বাড়িয়ে চলেছে।

  • বন্ড ইল্ড ও তেলের দাম: মার্কিন ১০-বছর মেয়াদী ট্রেজারি ইল্ড অনেক বছর পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর কারণে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনা ও রুপার ওপর চাপ তৈরি হয়েছে।

এলকেপি সিকিউরিটিজের কমোডিটি বিশেষজ্ঞ যতীন ত্রিবেদী এবং জেএম ফিনান্সিয়ালের প্রণব মেয়ারদের মতে, বাজারের দৃষ্টিভঙ্গি বর্তমানে অত্যন্ত সতর্কতামূলক। মার্কিন কর্মসংস্থান সংক্রান্ত তথ্যগুলি প্রকাশের পর বাজারে আরও বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যেতে পারে, যা বিনিয়োগকারীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সময় হতে চলেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *