৪০০০ কোটির মেগা প্রজেক্টে মারাত্মক ফাটল! চালকদের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি, ঢাকতে হাড়হিম করা কারসাজি

প্রায় ৪,০০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মুঙ্গের-মির্জাচৌকি গ্রিনফিল্ড চার-লেন সড়কের গুণমান ও নির্মাণশৈলী নিয়ে ফের একবার বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হলো। আকবরনগর-শাহকুন্ড সেকশনের গাংগাপুরের কাছে নির্মাণাধীন ওই চার-লেন সড়কে প্রায় ৫০ মিটার দীর্ঘ ও দুই ইঞ্চি গভীর একটি মারাত্মক ফাটল দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের ক্ষোভ, এই হাইওয়েতে একের পর এক বড় ফাটল ধরার ঘটনা এটাই প্রথম নয়, বরং এটি নিয়ে মোট তিনবার এমন বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হলো।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মুঙ্গের থেকে মির্জাচৌকি পর্যন্ত এই গ্রিনফিল্ড হাইওয়েটি মোট চারটি প্যাকেজে তৈরি করা হচ্ছে। যার মধ্যে কাঠামোগত ত্রুটি ও ফাটল নিয়ে প্রধানত প্যাকেজ ২-এর কাজ নিয়েই বারবার অভিযোগ উঠছে। সর্বশেষ গাংগাপুরের কাছে রাস্তার উপরিভাগে এই দীর্ঘ ফাটল তৈরি হওয়ার পাশাপাশি রাস্তার ধারের ভূমিধসও যাতায়াতকারী সাধারণ মানুষ ও পথচারীদের চরম উদ্বেগের মধ্যে ফেলেছে। हाल हीতে এই চার-লেন সড়কের দুটি লেন যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার পরই এই ঘটনা সামনে আসায় যাতায়াতের নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠেছে।

ফাটল ঢাকতে অভিনব লুকোচুরি!
স্থানীয়দের আরও গুরুতর অভিযোগ, এই বিপজ্জনক ফাটলগুলো মেরামতের বা সংস্কারের বদলে নির্মাণ সংস্থার শ্রমিকরা চতুরতার সঙ্গে পাটের বস্তা দিয়ে ঢেকে দেওয়ার চেষ্টা করেছে। জনসাধারণ এবং সংশ্লিষ্ট ওপর মহলের নজর এড়িয়ে অনিয়ম ধামাচাপা দিতেই এই পন্থা নেওয়া হয়েছে বলে দাবি ক্ষুব্ধ জনতার।

যদিও এটিই প্রথম নয়, এর আগে খারিয়া ও কাঞ্জিয়া গ্রামের কাছেও এই রুটে ফাটল ও কারিগরি ত্রুটির অভিযোগ উঠেছিল। গত বছর কাঞ্জিয়া গ্রামের কাছে রাস্তার একাংশ ভেঙে যাওয়ায় তা কংক্রিট দিয়ে মেরামত করা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী বর্ষায় সেই অংশটি ফের ভেঙে পড়ে। এমনকি ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ওই এলাকার জল নিষ্কাশন ব্যবস্থাও সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছিল, যা কেবল মাটি দিয়ে ভরাট করেই দায় সারা হয়েছিল বলে অভিযোগ। যদিও এনএইচএআই কর্তৃপক্ষের দাবি, গঙ্গা নদীর বন্যা এবং অতিরিক্ত জলের চাপের ফলেই মূলত এই সমস্যা তৈরি হচ্ছে।

কী বলছে প্রশাসন?
বারবার কেন এমন বিপর্যয় ঘটছে, তা নিয়ে উচ্চ-পর্যায়ের কারিগরি তদন্তের দাবি তুলেছেন ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা। অন্যদিকে, এনএইচএআই-এর টেকনিক্যাল ম্যানেজার অভিনব কুমার জানিয়েছেন, অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণেই এই সমস্যা হয়ে থাকতে পারে। নতুন ফাটল সম্পর্কে এখনও আনুষ্ঠানিক তথ্য না মিললেও পুরো বিষয়টি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত করে দেখা হবে। সংস্থার পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, যদি ক্ষতির মাত্রা গুরুতর বলে প্রমাণিত হয়, তবে ক্ষতিগ্রস্ত কংক্রিট কেটে ফেলে ওই অংশটি সম্পূর্ণ নতুন করে ফের নির্মাণ করা হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *