রোবটিক প্রযুক্তির বুট পায়ে নামতেই চোটে কাবু এমবাপে! রিয়াল শিবিরে বড় ধাক্কা

তুরস্কের বিরুদ্ধে দুর্দান্ত গোল করে দেশকে ম্যাচ জেতালেও কিলিয়ান এমবাপের সাম্প্রতিক চোট নতুন করে গভীর দুশ্চিন্তায় ফেলে দিয়েছে ফ্রান্স জাতীয় দল ও রিয়াল মাদ্রিদ ম্যানেজমেন্টকে। তবে মাঠের পারফরম্যান্স ছাপিয়ে এই মুহূর্তে ফুটবল বিশ্বে সবথেকে বড় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে তাঁর পায়ের নতুন বুট। দীর্ঘদিনের স্পনসর নাইকির সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে সম্প্রতি সুইৎজ়ারল্যান্ডের সংস্থা ‘অন’-এর (On) নতুন বুট পরে খেলতে নেমেছিলেন এমবাপে। আর সেই নতুন জুতো পরে মাঠে নামার পরই বড়সড় চোট পাওয়ার ঘটনায় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে—তবে কি জুতোর বদল ঘটানোই কাল হল ফরাসি তারকার জন্য?

গত শুক্রবার রাতে তুরস্কের বিরুদ্ধে এক আন্তর্জাতিক ফ্রেন্ডলি ম্যাচে ফ্রান্সকে জয় এনে দেওয়া গোলটি করেছিলেন কিলিয়ান এমবাপে। কিন্তু গোল করার পরের মুহূর্তেই ডান পায়ে শট নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাঁ হাঁটু চেপে তীব্র যন্ত্রণায় মাঠে লুটিয়ে পড়েন ফরাসি মহাতারকা। এ দিন গ্যালারি থেকে শুরু করে দর্শকদের মূল নজর ছিল তাঁর পায়ে থাকা সুইস ব্র্যান্ড ‘অন’-এর সদ্য বাজারে আসা সাদা প্রোটোটাইপ বুটের দিকে। প্রায় দুই দশকের সম্পর্ক ভেঙে এই প্রথম নাইকি ছেড়ে অন্য ব্র্যান্ডের জুতো পায়ে মাঠে নেমেছিলেন তিনি, আর প্রথম ম্যাচেই চোটের বলি হয়ে তাঁকে মাঠ ছাড়তে হলো।

ম্যাচ শেষে রিয়াল মাদ্রিদের মেডিকেল টিম পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানিয়েছে, এমবাপের বাঁ হাঁটুর পোস্টেরিয়র ক্যাপসুলে অতিরিক্ত টান (হাইপারএক্সটেনশন) পড়েছে। চলতি বছরের শুরুর দিকেও বাঁ হাঁটু নিয়ে অস্বস্তিতে ভুগেছিলেন তিনি। ফরাসি কোচ জ়িনেদিন জ়িদান ম্যাচ শেষে উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, শট নেওয়ার ঠিক আগের মুহূর্তে এমবাপের হাঁটু অতিরিক্ত প্রসারিত হয়ে গিয়েছিল। আঘাতের পর যে ফোলাভাব দেখা গেছে, তা একেবারেই স্বস্তিদায়ক নয়। ক্লাবের চিকিৎসকদের প্রাথমিক অনুমান, সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে মাঠে ফিরতে ফরাসি অধিনায়কের অন্তত ১০ থেকে ১২ দিন সময় লাগবে।

ফিজ়িওর সতর্কবাণীতেই মিলল সত্যতা?

এমবাপের এই চোট পাওয়ার পর স্প্যানিশ ফিজ়িওথেরাপিস্ট অ্যাঞ্জেল ভিলানুয়েভার বলা একটি পুরনো সতর্কবার্তা নতুন করে ভাইরাল হয়েছে। নাইকি ছেড়ে ‘অন’-এ যোগ দেওয়ার সময় ভিলানুয়েভা জানিয়েছিলেন যে, দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার করা বুটের স্টাড, কুশনিং, স্টিফনেস ও ওজনে আকস্মিক পরিবর্তন আনলে খেলোয়াড়ের বায়োমেকানিক্স এবং গতিবিধির ভারসাম্য নষ্ট হয়। এর ফলে পা, গোড়ালি ও হাঁটুর উপর অস্বাভাবিক চাপ পড়ে এবং চোটের ঝুঁকি বহুলাংশে বেড়ে যায়। এমবাপের এই অনভিপ্রেত চোটের নেপথ্যে নতুন জুতোর এই কাঠামোগত বদলই প্রধান কারণ কি না, তা নিয়ে এখন চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে বিশেষজ্ঞ মহলে।

কী বিশেষত্ব এমবাপের নতুন বুটের?

প্রযুক্তিগত দিক থেকে এমবাপের পরা কাস্টম ‘On LightSpray KM Prototype’ বুটটি সাধারণ ফুটবল

জুতোর তুলনায় একেবারেই আলাদা। প্রথাগত চামড়া কাটা, সেলাই বা আঠার ব্যবহার বাদ দিয়ে একটি রোবোটিক আর্মের সাহায্যে এমবাপের পায়ের ছাঁচে মাত্র ৩ মিনিটে থার্মোপ্লাস্টিক ফিলামেন্ট স্প্রে করে এই আল্ট্রা-থিন সিমলেস আপারটি তৈরি করা হয়েছে। এতে সাধারণ বুটের তুলনায় কার্বন নিঃসরণ প্রায় ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়, যাকে বলা হয় ‘লাইটস্প্রে’ প্রযুক্তি।

প্রায় ২০ বছর ধরে এমবাপে নাইকির ‘মার্কারিওরিয়াল সুপারফ্লাই’ বুট পরে খেলে আসছিলেন, যার মূল বৈশিষ্ট্য ছিল পায়ের তলায় ‘এয়ার জুম’ কুশনিং ইউনিট। কিন্তু সুইস ব্র্যান্ডের এই নতুন বুটে কোনো এয়ার জুম কুশন নেই, পাশাপাশি স্টাডের ভারসাম্য ও মাটির সঙ্গে গ্রিপের চরিত্রও সম্পূর্ণ আলাদা। আন্তর্জাতিক বিরতি শেষ করে রিয়াল মাদ্রিদের জার্সিতে ফেরার পর এমবাপে কি এই প্রোটোটাইপ বুটেই ভরসা রাখবেন, নাকি নিজের সুরক্ষার কথা ভেবে ফের চেনা ছকে ফিরে যাবেন—তা নিয়েই এখন সরগরম ফুটবল দুনিয়া। সাধারণ গ্রাহকদের জন্য এই বুট ২০২৭ সালের শুরুর দিকে বাজারে আসার কথা থাকলেও, তার আগেই এমবাপের এই চোট সংস্থাটিকে বড় ধাক্কা দিল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *