‘মোদী হাওয়ায় ভাসুন, ভোটে দাঁড়ান!’ নির্বাচন কমিশনারকে নিয়ে কোন হাঁড়ি ভাঙলেন প্রাক্তন আইএএস অফিসার?

ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া এবং নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য নিয়ে তৈরি হওয়া চরম রাজনৈতিক ঝড়ের মাঝেই এবার আরও এক মারাত্মক অভিযোগে উত্তাল হয়ে উঠল দেশের রাজনীতি। বর্তমান মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে এক অভূতপূর্ব ও বিস্ফোরক দাবি তুলে বসলেন প্রাক্তন আইএএস অফিসার তথা কেরালার প্রাক্তন মুখ্যসচিব জিজি থমসন। তাঁর অভিযোগ, সরকারি চাকরিতে থাকা অবস্থাতেই জ্ঞানেশ কুমার তাঁকে বিজেপির টিকিটে লোকসভা নির্বাচনে লড়তে এবং জিতলে ‘কেন্দ্রীয় মন্ত্রী’ করার প্রলোভন দিয়েছিলেন!

বিমানে যাত্রা চলাকালীন ‘টোপ’?

কেরালার প্রাক্তন কংগ্রেস সরকারের আমলে মুখ্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ১৯৮০ ব্যাচের আইএএস জিজি থমসন এক সাক্ষাৎকারে জানান, ঘটনাটি ঘটেছিল ২০১৬ সালে, যখন দু’জনেই সরকারি দায়িত্বে কর্মরত ছিলেন। দিল্লির উদ্দেশ্যে একটি বিমান যাত্রা চলাকালীন জ্ঞানেশ কুমার তাঁকে সরাসরি পরামর্শ দেন, অবসর গ্রহণের পর তাঁর জন্য সেরা বিকল্প হলো ২০১৯ সালের সাধারণ নির্বাচনে বিজেপির টিকিটে পাঠানামথিট্টা কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা। থমসনের দাবি, জ্ঞানেশ কুমার তাঁকে নিশ্চিত করে বলেছিলেন যে বিজেপির প্রার্থী হয়ে সাংসদ হলে তিনি সরাসরি ‘ক্যাবিনেট মন্ত্রী’ হতে পারবেন।

আইএএস জিজি থমসনের কথায়, “জ্ঞানেশ কুমার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিপুল জনপ্রিয়তা নিয়ে অত্যন্ত সোচ্চার ছিলেন এবং ক্রমাগত আমাকে রাজনীতিতে আসার জন্য রাজি করানোর চেষ্টা করেছিলেন। তবে আমি শুরুতেই সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করি।”

দ্বিগুণ চাপে নির্বাচন কমিশন:

সাম্প্রতিক এক সর্বভারতীয় সংবাদপত্রের প্রতিবেদনে প্রকাশ পায় যে, নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই অন্য দুই কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক জোশী ভোটার তালিকা সংশোধনসহ বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ১০ মাসে অন্তত ১৪ বার লিখিত আপত্তি জানিয়েছেন। সেই বিতর্ক মেটার আগেই এক প্রাক্তন সহকর্মীর এই ধরণের বিস্ফোরক দাবি রাজনৈতিক অঙ্গনে ঘৃতাহুতি ঢেলে দিয়েছে।

ইতিমধ্যেই এই ঘটনা নিয়ে বিরোধীরা সরব হয়েছে। কংগ্রেসসহ বিরোধী দলগুলির অভিযোগ, যিনি স্বাধীন ও সাংবিধানিক পদে বসে আছেন, অতীতে একটি রাজনৈতিক দলের হয়ে তাঁর এমন ‘সক্রিয়তা’ নিরপেক্ষ নির্বাচন প্রক্রিয়ার ওপরই বিরাট বড় প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিল। জাতীয় রাজনীতিতে এখন আলোচনার কেন্দ্রে একটাই প্রশ্ন— এই পর্বতসম অভিযোগের পর মুখ খুলবেন তো দেশের শীর্ষ নির্বাচন কর্মকর্তা?

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *