ফের কাঁপল পাকিস্তান! সীমান্ত সংঘাতের আবহেই ভয়াবহ জঙ্গি হামলা, টিটিপি-র হামলায় একের পর এক লাশ!

আন্তর্জাতিক সীমান্ত সংঘাত এবং চরম রাজনৈতিক অস্থিরতার মাঝেই ফের এক রক্তক্ষয়ী আত্মঘাতী বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল পাকিস্তান। শনিবার খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের ডেরা ইসমাইল খান এলাকায় আয়োজিত ‘আমন মেলা’ চলাকালীন এই ভয়াবহ জঙ্গি হামলাটি ঘটে। সংবাদ সংস্থা ও স্থানীয় সূত্রের খবর, বিস্ফোরক বোঝাই একটি দ্রুতগতির গাড়ি নিয়ে এসে মেলা প্রাঙ্গণে বিস্ফোরণ ঘটায় এক আত্মঘাতী হামলাকারী। অগ্নিকাণ্ড ও শক্তিশালী বিস্ফোরণের ধাক্কায় এখনও পর্যন্ত অন্তত ১২ জনের মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর মিলেছে।

ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন ৩০ জনেরও বেশি মানুষ। পাকিস্তান জরুরি পরিষেবা বিভাগ ১১২২-এর উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে নিকটবর্তী হাসপাতালে ভর্তি করেছে। বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

হামলার দায় স্বীকার পাকিস্তান তালিবানের: এই নৃশংস ও ভয়াবহ হামলার দায়িত্ব স্বীকার করেছে ‘তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান’ (TTP), যা সাধারণভাবে ‘পাক তালিবান’ নামে পরিচিত। দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তানের সীমান্তবর্তী এই ডেরা ইসমাইল খান একসময় পাক সেনাবাহিনীর অন্যতম শক্তিশালী ঘাঁটি ছিল। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরেও ঠিক একইভাবে এই এলাকার একটি পুলিশ স্টেশনের গেটে বিস্ফোরক ভর্তি গাড়ি নিয়ে ধাক্কা মেরেছিল হামলাকারীরা, যেখানে প্রাণ হারিয়েছিলেন ২৩ জন পুলিশকর্মী।

এক সপ্তাহে দ্বিতীয় বিস্ফোরণ, তীব্র হচ্ছে আফগান-পাক সংঘাত: মাত্র এক সপ্তাহ আগেই খাইবার পাখতুনখাওয়ার কোহাটের একটি মসজিদে বিস্ফোরক বোঝাই গাড়ি দিয়ে আত্মঘাতী হামলা চালানো হয়েছিল, যার তীব্রতায় পুরো মসজিদের দেওয়াল উড়ে যায়। আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী এই অঞ্চলে পর পর বিস্ফোরণের পেছনে গভীর আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক রাজনীতির সমীকরণ দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

দু’দিন আগেই দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্তে পাকিস্তান ও আফগানিস্তান সেনার মধ্যে তীব্র গোলাগুলি শুরু হয়। পাকিস্তান দাবি করেছিল, তাদের গোপন অভিযানে ১৩ জন আফগান তালিবান জঙ্গি নিহত হয়েছে। পাকিস্তানের স্পষ্ট অভিযোগ, আফগানিস্তানের বর্তমান তালিবান সরকার পাক তালিবান (TTP) এবং বালোচ লিবারেশন আর্মিকে (BLA) আশ্রয় ও মদত দিচ্ছে। যদিও আফগান সরকারের তরফে সেই অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

চিন, তুরস্ক, কাতার এবং সৌদি আরবের মতো রাষ্ট্রগুলি যখন পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে স্থায়ী শান্তিস্থাপনের জন্য আপ্রাণ মধ্যস্থতা করার চেষ্টা চালাচ্ছে, ঠিক সেই সময় ডেরা ইসমাইল খানের এই আত্মঘাতী হামলায় মধ্য এশিয়ায় নতুন করে বড়সড় সংঘাতের মেঘ ঘনিয়ে আসছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *