কম খরচে সেরা স্টার্টআপ আইডিয়া! সরকারি পেটেন্ট পাওয়া এই ঝুলন্ত ঢেঁকিতেই খুলবে উপার্জনের নতুন দিশা!

গ্রামবাংলার হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী ঢেঁকিতে এবার আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া! কম খরচে স্বনির্ভরতার নতুন বাণিজ্যিক সম্ভাবনা তৈরি করে তাক লাগিয়ে দিল বাঁকুড়ার ‘উন্নয়নী ইনস্টিটিউট অফ ইঞ্জিনিয়ারিং’। ইনস্টিটিউটের মেকানিক্যাল বিভাগের ইঞ্জিনিয়াররা তৈরি করেছেন এক অভিনব ‘উল্লম্ব যন্ত্রচালিত ঢেঁকি’ (Vertical Motorized Dheki)।

ইতিমধ্যেই ভারত সরকারের পেটেন্ট স্বীকৃতি পেয়েছে পরিবেশবান্ধব এই প্রযুক্তি। পরীক্ষার গণ্ডি পেরিয়ে সচল মডেল বাজারে আসতেই মহারাষ্ট্রসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মিলছে ঢালাও অর্ডার।

কী বিশেষত্ব এই নতুন আধুনিক ঢেঁকির?

প্রচলিত কাঠের ঢেঁকি তৈরি করতে প্রচুর পরিমাণ কাঠ লাগত, যার ফলে গাছ কাটার প্রয়োজন হতো। সেই সমস্যার পরিবেশবান্ধব সমাধান বের করেছেন বাঁকুড়ার ইঞ্জিনিয়াররা।

  • ধাতব কাঠামো ও উল্লম্ব নকশা: প্রচলিত ঢেঁকির বদলে এর পুরো কাঠামোটি উল্লম্ব (Vertical) বা খাড়াভাবে তৈরি করা হয়েছে এবং এতে কাঠের বদলে ধাতব ফ্রেম ব্যবহার করা হয়েছে।

  • কম জায়গা ও কাঠ বাঁচানো: ঝুলন্ত ও খাড়া নকশার কারণে এটি স্থাপন করতে অত্যন্ত কম জায়গার প্রয়োজন হয়। এতে গাছের ওপর নির্ভরতা একেবারেই কমে গেছে।

মাত্র ১ ইউনিট কারেন্টে সারাদিন আয়!

এই যন্ত্রচালিত ঢেঁকির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো এর অবিশ্বাস্য কম বিদ্যুৎ খরচ। ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান শশাঙ্ক দত্ত জানিয়েছেন, সারাদিন চাল বা গম গুঁড়ো করার পর এই যন্ত্রে বিদ্যুৎ খরচ হয় মাত্র ১ ইউনিট!

অর্থাৎ, নামমাত্র খরচে যে কেউ নিজের এলাকায় চাল-গম ভাঙার স্টার্টআপ শুরু করে অনায়াসে ভালো অর্থ উপার্জন করতে পারবেন। এর জন্য কোনো কঠিন শারীরিক পরিশ্রমেরও প্রয়োজন পড়বে না।

স্বাস্থ্য সচেতনদের নতুন ভরসা

পুষ্টিবিদদের মতে, মেশিনে পলিশ করা চালের চেয়ে ঐতিহ্যবাহী ঢেঁকিছাটা চালের পুষ্টিগুণ অনেক বেশি। বর্তমানে স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের কাছে এই ঢেঁকিছাটা চাল ও অক্ষত পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ আটার চাহিদা তুঙ্গে। ফলে নতুন এই প্রযুক্তিতে তৈরি সামগ্রী সহজেই চড়া দামে বাজারে বিক্রি করা সম্ভব।

দীর্ঘ সাত বছরের পরিশ্রমের জয়

২০১৭ সালে এই প্রযুক্তি আবিষ্কারের পর পেটেন্টের জন্য আবেদন করেছিল কলেজ কর্তৃপক্ষ। দীর্ঘ সাত বছরের দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে ২০২৪ সালে এটি ভারত সরকারের অফিশিয়াল পেটেন্ট লাভ করে। বাঁকুড়ার পুয়াবাগানে তৈরি এই অভিনব প্রযুক্তি এখন আর শুধু পশ্চিমবঙ্গের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নেই—রাজ্য ছাড়িয়ে ভিনরাজ্যেও এটি দারুণ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। গ্রামের বেকার যুবক-যুবতীদের স্বনির্ভর করার ক্ষেত্রে এই স্বল্প পুঁজির স্টার্টআপ এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে চলেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *