‘রাতারাতি গজিয়ে ওঠা দলকে প্রতীক দিয়ে দেওয়া হল!’ নওশাদের মারাত্মক তোপের পর পালটা চাল ঋতব্রতদের!

উপনির্বাচনের ঢাল কাটার আগেই রাজ্য রাজনীতিতে নির্বাচনী প্রতীক ‘খাম’ (Envelope Symbol) ঘিরে লড়াই এবার তুঙ্গে। আইএসএফ (ISF) বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকীর আইনি পদক্ষেপের পর, সেই প্রতীক নিজেদের দখলেই রাখতে এবার সরাসরি ময়দানে নামল ‘গণতান্ত্রিক তৃণমূল’। দলের পক্ষ থেকে প্রবীণ নেতা তথা মন্ত্রি অরূপ রায় শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়ে পাল্টা হলফনামা পেশের প্রক্রিয়া শুরু করেছেন।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে জলঘোলা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের বেঞ্চে আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর এই হাই-ভোল্টেজ মামলার শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।

“রাতারাতি গজিয়ে ওঠা পার্টিকে আমাদের চিহ্ন দিয়ে দিল কমিশন!”

আদালতে দাঁড়িয়ে সোচ্চার সওয়াল করেন আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে যে ‘খাম’ প্রতীক তারা ব্যবহার করে আসছিলেন, উপনির্বাচনে কোনও বিজ্ঞপ্তি বা আলোচনা ছাড়াই নির্বাচন কমিশন তা তুলে দিয়েছে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন সদ্য গঠিত দল ‘গণতান্ত্রিক তৃণমূল’-এর হাতে।

নওশাদ ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “আমাদের দলীয় চিহ্ন ‘খাম’ রাতারাতি গজিয়ে ওঠা একটা পার্টিকে বরাদ্দ করে দেওয়া হয়েছে। এটি সম্পূর্ণ অন্যায়। সাধারণ নিয়মে মুক্ত প্রতীক পেতে গেলে আবেদন বা ফরম পূরণ করতে হয়, কিন্তু কমিশন আমাদের সঙ্গে বিন্দুমাত্র আলোচনা ছাড়াই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর বিচার চাই।”

কেন এই জটিলতা? কী বলছে কমিশনের নিয়ম?

নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে এখনও পর্যন্ত ‘স্বীকৃত রাজ্য দল’ (Recognised State Party) হিসেবে তকমা পায়নি আইএসএফ। ফলে কমিশনের নথিতে তাঁদের ‘নির্দল’ হিসেবেই গণ্য করা হয় এবং তাদের কোনও স্থায়ী সংরক্ষিত প্রতীক নেই। এই আইনি ফাঁক ব্যবহার করেই ‘ফ্রি সিম্বল’ হিসেবে ‘খাম’ প্রতীকটি গণতান্ত্রিক তৃণমূলকে বরাদ্দ করা হয়েছিল।

তবে এই হাতছাড়া হওয়া মানতে নারাজ আইএসএফ। অন্যদিকে, হাতে আসা প্রতীক কোনওভাবেই হাতছাড়া করতে রাজি নয় গণতান্ত্রিক তৃণমূল। আদালতের লড়াইয়ে নিজেদের অধিকার সাব্যস্ত করতে পুরোপুরি প্রস্তুত অরূপ রায় ও তাঁর আইনজীবী দল।

হাইকোর্টের কড়া বার্তা: কমিশনের জবাব তলব

পুরো বিতর্কটি শোনার পর কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি কৃষ্ণা রাও নির্বাচন কমিশনের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। উপনির্বাচনে ফ্রি সিম্বল বন্টনের আগে কমিশন কেন কোনও পূর্ব বিজ্ঞপ্তি জারি করেনি, সে বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান জানতে চেয়েছে আদালত।

বিচারপতি নির্দেশ দিয়েছেন, আগামী ২৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নির্বাচন কমিশনকে নিজেদের অবস্থান ও নওশাদের তোলা অভিযোগের স্পষ্ট জবাব পেশ করতে হবে। ওই দিনই শুনানির পর স্থির হবে উপনির্বাচনে ‘খাম’ প্রতীক কার ব্যালটে জ্বলজ্বল করবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *