শরীরের ৬৫ শতাংশ পুড়ে ছাই! কার্শিয়াংয়ের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় কড়া পদক্ষেপ প্রশাসনের

পাহাড়ে বেড়াতে গিয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হওয়া নববধূর ঘটনায় অবশেষে বড় পদক্ষেপ করল প্রশাসন ও পুলিশ। কার্শিয়াংয়ের সিটিং-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের খাসমহল এলাকার আলোচিত সেই হোমস্টেটি মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে সিল করে দেওয়া হয়েছে। ঘটনার আট দিন পর ফরেনসিক দল ঘটনাস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহের পরই এই কড়া পদক্ষেপ করা হয়। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পিছনে নিছকই গাফিলতি নাকি অন্য কোনো রহস্য রয়েছে, ফরেনসিক রিপোর্ট হাতে এলেই তা স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গত ১৩ সেপ্টেম্বর কার্শিয়াংয়ের ওই হোমস্টেতে হানিমুনে গিয়ে বারবিকিউ তৈরির সময় ভয়াবহ বিপদের মুখে পড়েন উত্তর দিনাজপুরের চোপড়ার বাসিন্দা নিকিতা সাহা। অভিযোগ, বারবিকিউতে তরল জ্বালানি ঢালার সময় হঠাৎই দাউদাউ করে আগুন জ্বলে ওঠে এবং মুহূর্তে তা ছড়িয়ে পড়ে। যার জেরে ওই তরুণীর শরীরের প্রায় ৬৫ শতাংশ পুড়ে মারাত্মক জখম হন। ঘটনার পরই হোমস্টে কর্তৃপক্ষের চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনতা ও ন্যূনতম অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা না থাকার অভিযোগ তোলে ভুক্তভোগী পরিবার। পরিবারের দাবি, দুর্ঘটনার পর হাসপাতালেও ঠিকমতো সহযোগিতা মেলেনি, ফলে মূল্যবান সময় নষ্ট হয়।
এই ঘটনায় কড়া আইনি পদক্ষেপ নিয়ে পুলিশ ইতিমধ্যেই হোমস্টের মালিক নেহাল আইরান, ম্যানেজার দীপেন লামা, কর্মী পবন আগরওয়াল এবং শ্রমিক নাসিরুদ্দিনকে গ্রেফতার করেছে। বর্তমানে কলকাতার এমআর বাঙুর হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন গুরুতর দগ্ধ নিকিতা। এদিকে নিম্নবিত্ত পরিবারের পক্ষে মেয়ের এই ব্যয়বহুল চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া অসম্ভব হয়ে দাঁড়ানোয়, রাজ্য সরকারের কাছে চিকিৎসার জন্য আর্থিক সাহায্যের আকুল আবেদন জানিয়েছেন তাঁর বাবা নির্মল সাহা। পাশাপাশি সিটিংয়ের এই ঘটনার পর নড়েচড়ে বসেছে পর্যটন দফতর ও দমকল বিভাগও। পাহাড়ের সমস্ত অনথিভুক্ত ও নথিভুক্ত হোমস্টেগুলির সুরক্ষা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে এবং কড়া নজরদারি চালাতে বিশেষ দল মাঠে নামানো হয়েছে।