যাদবপুরে প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়কের বাড়িতে মধ্যরাতে ‘তাণ্ডব’! তড়িঘড়ি কেন আসরে নামলেন শমীক ভট্টাচার্য?

দক্ষিণ কলকাতার রাজনীতির উত্তাপ এক ধাক্কায় বাড়িয়ে দিল যাদবপুরের সাবেক বিধায়ক তথা প্রাক্তন মেয়র পারিষদ দেবব্রত (মলয়) মজুমদারের বিজয়গড়ের বাড়িতে তাণ্ডবের ঘটনা। শনিবার গভীর রাতে প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ জনের এক সশস্ত্র বাহিনী তাঁর বাড়িতে হামলা চালায় বলে অভিযোগ। সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুর, গালিগালাজ এবং তাঁর দাদাকে ধস্তাধস্তির পাশাপাশি একাধিক পার্টি অফিস ও শহীদ বেদী ভাঙার অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনার পরপরই কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয় বিজেপিকে। তবে শাসকদলের এই দাবি সম্পূর্ণ নস্যাৎ করে পাল্টা কড়া জবাব দিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।
“কেশব মজুমদারের ভিটেতে বিজেপি কর্মীরা হাত দেবে না!”
হামলার ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে স্পষ্ট ভাষায় বিজেপির যুক্ত থাকার কথা অস্বীকার করেন শমীক ভট্টাচার্য। দেবব্রত মজুমদারের পারিবারিক রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ডের কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন:
“দেবব্রত মজুমদার একসময় আমাদের দলেই ছিলেন, পরবর্তীতে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন। তবে তাঁর পিতা কেশব মজুমদার জনসংঘ প্রতিষ্ঠার সময় থেকে ছিলেন এবং বিজেপির জন্মলগ্ন থেকে দলের সাথে যুক্ত ছিলেন। আমাদের দলের কোনও কর্মী গিয়ে কেশব মজুমদারের বাড়ি ভাঙচুর করবে, এটা অকল্পনীয়।”
শমীক ভট্টাচার্য আরও জানান, দেবব্রত মজুমদারের পরিবারে তাঁর পিতা ও দাদার বিজেপি বিচার পরিবারের সাথে দীর্ঘদিনের স্মৃতি এবং স্পর্শ রয়েছে। সেখানে বিজেপি কর্মী সেজে অন্য কেউ বা দুষ্কৃতীরা হিংসা ছড়িয়ে দলকে কালিমালিপ্ত করার চক্রান্ত করছে।
অভিযোগ ও পাল্টা রাজনৈতিক বাকযুদ্ধ
শনিবার রাতের ওই হামলার বিষয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে সাবেক তৃণমূল বিধায়ক দেবব্রত মজুমদার দাবি করেন, রাতে প্রায় ১৫০ জন লোক এসে অরাজকতা সৃষ্টি করেছে। এটি বিজেপিরই কাজ।
তবে শমীক ভট্টাচার্যের স্পষ্ট কথা, “পার্টি অফিস ভাঙা কিংবা শহীদ বেদী ভাঙচুর করা বিজেপির সংস্কৃতি নয়। বিজেপি সেজে কিছু মানুষ আক্রমণ চালাচ্ছে এবং দলকে বদনাম করার চেষ্টা করছে।” পুরো বিষয়টি নিয়ে তিনি সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করবেন বলেও জানিয়েছেন।
সব মিলিয়ে, উপনির্বাচন ও রাজনৈতিক টানাপোড়েনের আবহে বিজয়গড়ের এই হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসক-বিরোধী তরজা এখন তুঙ্গে।