ভোটের আগেই মাঠ ছাড়লেন হুমায়ুন কবীর! রেজিনগরে নাটকীয় মোড়ে তোলপাড় মুর্শিদাবাদের রাজনীতি

উপনির্বাচনের ঠিক মুখোমুখি দাঁড়িয়ে রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রে তৈরি হলো চরম রাজনৈতিক নাট্যমূহূর্ত। পুলিশের একের পর এক ধরপাকড় এবং দলীয় কর্মী-সমর্থকদের ওপর ‘অত্যাচারের’ প্রতিবাদে রবিবারের সমস্ত ভোট প্রচার স্থগিত করার ঘোষণা দিলেন ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’-র প্রতিষ্ঠাতা ও প্রসূননেতা হুমায়ুন কবীর। প্রার্থী ও দলীয় কর্মী-সমর্থকরা আতঙ্কে কাঁপছেন দাবি করে সরাসরি প্রচার ময়দান ছাড়ার সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি।
তবে কেবল প্রচার বন্ধেই থেমে থাকেননি, ভোটের দিন সরাসরি মুখোমুখি লড়াইয়ের হুঁশিয়ারি দিয়ে মুর্শিদাবাদের রাজনৈতিক পারদ চড়িয়ে দিয়েছেন এই প্রাক্তন বিধায়ক।
কেন হঠাৎ প্রচার বন্ধের সিদ্ধান্ত?
শনিবার ছিল প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন এবং প্রার্থীদের হাতে কমিশন থেকে নির্বাচনী প্রতীক তুলে দেওয়া হয়। সাধারণত প্রতীক পাওয়ার পরই প্রতিটি দল জোরকদমে প্রচার ময়দানে নেমে পড়ে। কিন্তু রেজিনগরের ক্ষেত্রে ছবিটা সম্পূর্ণ উল্টো রূপ নিল।
হুমায়ুন কবীরের অভিযোগ, শুক্রবার নন্দীগ্রামে এক প্রার্থী গ্রেফতারের পর শনিবার রেজিনগরে বহরমপুর থানার পুলিশ তাঁদের দলের ব্লক সভাপতি তথা নির্দল প্রার্থী সইফুল ইসলামকে পুরনো মামলায় গ্রেফতার করেছে। হুমায়ুনের দাবি, যেভাবে পুলিশ বেছে বেছে তাঁর দলের কর্মী-সমর্থকদের তুলছে, তাতে গোটা দল আতঙ্কে সন্ত্রস্ত। কাদের নিয়ে তিনি প্রচারে নামবেন, সেই প্রশ্ন তুলে রবিবারের প্রচার বয়কট করেন তিনি।
“পুলিশ বিজেপির হয়ে কাজ করছে, ভোটের দিন মোকাবিলা হবে!”
পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে হুমায়ুন কবীর সরাসরি অভিযোগ করেন যে, প্রশাসন ও পুলিশ নিরপেক্ষ ভূমিকা হারিয়ে বিরোধীদের কণ্ঠরোধে ব্যস্ত।
হুমায়ুন কবীরের চরম হুঁশিয়ারি:
“আমরা এখন আর প্রচার করব না। পুলিশ যা লুট করার করুক, সেই লুটের উত্তর আমরা ভোটের দিন দেব। তাতে দশটা খুন হলে আমার হবে, ওদের হলে হবে! আমাদের পদে পদে বিরক্ত করা হচ্ছে, প্রচার করতে দেওয়া হচ্ছে না। যা হওয়ার ভোটের দিন ময়দানেই ফয়সালা হবে।”
রাজনৈতিক উত্তাপ তুঙ্গে
উপনির্বাচনের আগে রেজিনগরে প্রশাসনিক তৎপরতা ও রাজনৈতিক বাকযুদ্ধের কারণে পরিস্থিতি রীতিমতো উত্তপ্ত। একযোগে শাসকদল ও পুলিশের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে নেওয়ার হুঙ্কার দিয়ে হুমায়ুন কবীর যেভাবে প্রচার বন্ধ করলেন, তাতে ভোটের দিন রেজিনগরের বুথগুলিতে অশান্তির আশঙ্কা আরও ঘনীভূত হচ্ছে।