বাংলাদেশে আইফোনের লোভে নির্মম হত্যাকাণ্ড! বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে জঙ্গল থেকে উদ্ধার শিক্ষকের ছেলের রক্তাক্ত দেহ

একটি আইফোনই কাল হলো ১৩ বছরের কিশোরের জীবনে। মায়ের স্মার্টফোনটি হাতে নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল সে। কিন্তু আর ফিরে আসা হলো না। মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার একটি ঘন জঙ্গল থেকে উদ্ধার হলো তার রক্তাক্ত মরদেহ।

চাঞ্চল্যকর ও মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে বাংলাদেশের কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায়। নিহত কিশোরের নাম ইশায়াত শাহরিয়ার ওরফে অপ্রতীম (১৩)। সে স্থানীয় একটি স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। একই সঙ্গে সে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান।

ঠিক কী ঘটেছিল সেদিন?

পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার দুপুর আড়াইটে নাগাদ মায়ের আইফোন নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয় অপ্রতীম। উদ্দেশ্য ছিল বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলা। কিন্তু বিকেল পেরিয়ে সন্ধ্যা গড়ালেও ছেলে বাড়ি না ফেরায় চরম আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠায় দিন কাটাতে থাকে পরিবার। সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও কোনো সন্ধান মেলেনি।

পরদিন শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের জঙ্গলে এক কিশোরের রক্তাক্ত দেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করলে শনাক্ত হয় এটি নিখোঁজ অপ্রতীমেরই দেহ।

মাথায় মারাত্মক আঘাত, মোবাইল ছিনতাইয়ের জন্যই খুন?

উদ্ধার হওয়া মরদেহের মাথায় গভীর ও মারাত্মক আঘাতের চিহ্ন পেয়েছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশের অনুমান, দামী আইফোনটি ছিনতাই করতেই ওড়না বা ভারী কোনো বস্তু দিয়ে আঘাত করে নির্মমভাবে খুন করা হয়েছে অপ্রতীমাকে।

পরিবারের কান্না ও ক্ষোভ: একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে শোকস্তব্ধ পুরো পরিবার। অপ্রতীমের দেহ বাড়িতে পৌঁছাতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজনরা। কোটবাড়ি এলাকা ও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। ঘটনায় জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও কঠোর শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

কড়া পদক্ষেপ পুলিশের, আটক ৩

ঘটনার পর নিহত অপ্রতীমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার কুমিল্লার সদর দক্ষিণ মডেল থানায় একটি লিখিত হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। তদন্তে নেমে পুলিশ ইতোমধ্যেই তিনজনকে আটক করেছে।

পুলিশের দাবি, ঘটনার নেপথ্যে থাকা মূল ছক তারা অনেকটাই উন্মোচন করতে পেরেছে এবং দ্রুতই সব আসামিকে আইনের আওতায় আনা হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *