ডিউটির মাঝেই চরম সিদ্ধান্ত! পুলিশ ট্রেনিং স্কুলে পুলিশকর্মীর মৃত্য ঘিরে উঠছে একাধিক প্রশ্ন

শনিবার সকালে কলকাতার পুলিশ ট্রেনিং স্কুলের অন্দরে ঘটল এক মর্মান্তিক ও মর্মান্তিক ঘটনা। ট্রেনিং স্কুলের শৌচালয় থেকে উদ্ধার করা হলো কর্মরত এক অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব-ইনস্পেক্টর (ASI)-এর ঝুলন্ত দেহ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে খোদ লালবাজার ও কলকাতা পুলিশ প্রশাসনের অন্দরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।

মৃত পুলিশকর্মীর নাম দীপক তামাং। তিনি মূলত কালিম্পংয়ের বাসিন্দা এবং দীর্ঘদিন ধরে কলকাতা পুলিশ ট্রেনিং স্কুলে এএসআই পদে কর্মরত ছিলেন।

শৌচালয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান সহকর্মীরা

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার সকালে কলকাতা পুলিশ ট্রেনিং স্কুলের শৌচালয়ে দীপক তামাংকে ঝুলন্ত ও অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করেন তাঁর সহকর্মীরা। দৃশ্যটি চোখে পড়তেই সহকর্মীরা দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে সেখানে পৌঁছালে চিকিৎসকেরা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

প্রাথমিকভাবে তদন্তকারীদের অনুমান, মানসিক অবসাদ থেকেই নিজেই নিজের জীবন শেষ করার এই চরম পথ বেছে নিয়েছেন দীপক।

অবসাদ ও পারিবারিক অশান্তির ইঙ্গিত

ঘটনাস্থলে পৌঁছায় হেস্টিংস থানার পুলিশ। প্রাথমিক অনুসন্ধানের পর পুলিশ সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে যে, বেশ কিছুদিন ধরে মানসিক চাপের মধ্যে দিন কাটাচ্ছিলেন দীপক তামাং। তাঁর পারিবারিক জীবনেও নানা সমস্যা ও অশান্তি চলছিল বলে খবর। সেই ব্যক্তিগত বা পারিবারিক টানাপোড়েন থেকেই গভীর অবসাদ তৈরি হয়েছিল কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তদন্তে নামল হেস্টিংস থানা

একজন কর্মরত পুলিশকর্মীর এই ধরণের মৃত্যুতে একাধিক ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। ঘটনার মূল কারণ জানতে বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে হেস্টিংস থানা।

  • সুইসাইড নোট: ঘটনাস্থল বা মৃত ব্যক্তির কাছ থেকে কোনো চিঠি বা সুইসাইড নোট উদ্ধার হয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করা হচ্ছে।

  • ফোন রেকর্ড ও গতিবিধি: দীপকের সাম্প্রতিক গতিবিধি, সহকর্মীদের সাথে তাঁর আচরণ এবং মৃত্যুর আগে ফোনে তিনি শেষ কাদের সাথে কথা বলেছিলেন—সেই সমস্ত কল ডিটেইলস খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

বর্তমানে একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা দায়ের করে ঘটনার পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্ট হাতে আসার পরেই মৃত্যুর সঠিক কারণ এবং সময় সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা মিলবে বলে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *