উৎসবের মরশুমে রেলের ধাক্কা! টানা ১৪ দিন বন্ধ থাকছে একগুচ্ছ ট্রেন, দেখুন পুরো তালিকা

উৎসবের শুরুতেই রেলের ধাক্কা: বাতিল ৫১টি ট্রেন, চরম ভোগান্তির আশঙ্কা
সামনেই বাঙালিদের সেরা উৎসব দুর্গাপুজো। কেনাকাটা থেকে শুরু করে ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনা—সবই প্রায় শেষ পর্যায়ে। ঠিক এই মুহূর্তেই দক্ষিণ-পূর্ব রেলের পক্ষ থেকে এলো এক আশঙ্কাজনক খবর। উৎসবের ঠিক মুখেই হাওড়া-খড়গপুর শাখায় বাতিল হতে চলেছে ৫১টি গুরুত্বপূর্ণ ট্রেন। রেলের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, চেঙ্গাইল রেল ইয়ার্ডে ইয়ার্ড রিমডেলিংয়ের কাজের জন্যই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
কত দিন ব্যাহত থাকবে ট্রেন চলাচল?
দক্ষিণ-পূর্ব রেলওয়ে সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে ১১ অক্টোবর পর্যন্ত হাওড়া-খড়গপুর শাখায় ট্রেন চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে। প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে ইয়ার্ড রিমডেলিংয়ের মতো জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ ও আধুনিকীকরণের কাজ চলবে।
এই কাজের জন্য যে সমস্ত ট্রেন বাতিল করা হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে নিত্যযাত্রী ও পর্যটকদের অতি প্রিয় একাধিক দূরপাল্লার ও এক্সপ্রেস ট্রেন।
কোন কোন ট্রেন থাকছে বাতিলের তালিকায়?
রেলের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বাতিল হওয়া ট্রেনগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
-
হাওড়া-দীঘা এক্সপ্রেস (দীঘাগামী পর্যটকদের বড় ধাক্কা)
-
হাওড়া-বরবিল এক্সপ্রেস
-
হাওড়া-কান্তাবাঞ্জি ইস্পাত এক্সপ্রেস ও কান্তাবাঞ্জি-হাওড়া ইস্পাত এক্সপ্রেস
-
জুনাগড় রোড-হাওড়া ইস্পাত এক্সপ্রেস
-
শালিমার-ভোজুডিহ-শালিমার এক্সপ্রেস
এছাড়াও অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়েও বেশ কিছু ট্রেন পরিষেবা বন্ধ থাকবে:
-
১০ অক্টোবর: বাতিল থাকবে হাওড়া-পুরী এক্সপ্রেস, হাওড়া-জগদলপুর এক্সপ্রেস, হাওড়া-চক্রধরপুর এক্সপ্রেস এবং হাওড়া-বোকারো স্টিল সিটি এক্সপ্রেস।
-
১১ অক্টোবর: বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে সাঁতরাগাছি-পুরুলিয়া-হাওড়া এক্সপ্রেস।
চিন্তায় যাত্রীরা, আগাম বিকল্প ভাবনার পরামর্শ
পুজোর মুখে দীঘা বা পুরী ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন বহু মানুষ। একই সঙ্গে কর্মক্ষেত্র থেকে বাড়ি ফেরার পরিকল্পনাতেও জল ঢেলে দিয়েছে রেলের এই সিদ্ধান্ত।
হাওড়া-খড়গপুর শাখা দক্ষিণ-পূর্ব রেলের অন্যতম ব্যস্ত রুট হওয়ায় প্রতিদিন লক্ষাধিক মানুষ যাতায়াত করেন। একসঙ্গে ৫১টি ট্রেন বাতিল হওয়ায় বিকল্প পরিবহন ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়বে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাই ওই নির্দিষ্ট দিনগুলিতে ভ্রমণের পরিকল্পনা থাকলে যাত্রীদের আগাম বিকল্প ব্যবস্থার কথা মাথায় রেখে বেরোনোর পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।