লালবাজারে আচমকা ফোন, সময় মাত্র কয়েক মিনিট! জীবন বাঁচাতে শহরের রাস্তায় রুদ্ধশ্বাস রেস পুলিশের

সোজা ১০০ ডায়ালে কল করে ভয়ার্ত কণ্ঠে বার্তা— “আমি গার্ডেনরিচে আছি, চরম সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছি!” ফোনটা আসতেই বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট না করে ময়দানে নামল পুলিশ। কলকাতা পুলিশের তৎপরতায় আর নাদিয়াল থানার দ্রুত পদক্ষেপে মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পেলেন মারাত্মক মানসিক অবসাদে ভোগা এক ব্যক্তি।
ঘটনাস্থল কলকাতার গার্ডেনরিচ স্টেট জেনারেল হাসপাতাল প্রাঙ্গণ। শুক্রবার সন্ধ্যায় ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় লালবাজারের দ্রুত সিদ্ধান্ত এবং স্থানীয় নাদিয়াল থানার মানবিক ভূমিকা প্রশংসায় ভেসে যাচ্ছে।
কে এই ব্যক্তি? কীভাবে এলো বার্তা?
উদ্ধার হওয়া ব্যক্তির নাম জায়েস জাহাঙ্গীর হোসেন (৪৭)। তিনি দক্ষিণ ২৪ পরগনার বেলেগাছির বেতবেড়িয়া এলাকার বাসিন্দা। দীর্ঘ দিন ধরেই তিনি গভীর মানসিক অবসাদ বা ডিপ্রেশনে ভুগছিলেন বলে জানতে পেরেছে পুলিশ।
শুক্রবার হঠাৎই তিনি গার্ডেনরিচ হাসপাতাল চত্বরে গিয়ে উপস্থিত হন এবং সেখান থেকেই লালবাজারের পুলিশ হেল্পলাইনে ফোন করেন। নিজের জীবনের ইতি টানার বার্তা দিতেই বার্তা পৌঁছে যায় কন্ট্রোল রুমে।
হাসপাতালের সিসিটিভি ও কৌশলী উদ্ধার অভিযান
ফোন আসার সাথে সাথেই অ্যালার্ট জারি করা হয় স্থানীয় নাদিয়াল থানায়। সেখান থেকে পুলিশের একটি বিশেষ দল তড়িঘড়ি গার্ডেনরিচ স্টেট জেনারেল হাসপাতালে পৌঁছায়। চিরুনি তল্লাশি চালিয়ে এবং অত্যন্ত কৌশলে হাসপাতাল চত্বর থেকে ওই ব্যক্তিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেন পুলিশ কর্মীরা।
কলকাতা পুলিশের অতিরিক্ত নগরপাল (গোয়েন্দা) কুণাল আগরওয়াল ঘটনা প্রসঙ্গে জানান, “ফোন পাওয়ামাত্রই পুলিশ দ্রুততার সঙ্গে পদক্ষেপ নিয়েছে এবং সঠিক সময়ে পৌঁছানোর ফলে ওই ব্যক্তিকে জীবন ভিক্ষা দেওয়া সম্ভব হয়েছে।”
স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও স্বজনদের হাতে সমর্পণ
উদ্ধারের পরপরই তাঁকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গিয়ে শারীরিক পরীক্ষা করানো হয়। চিকিৎসকরা জানান, তিনি শারীরিকভাবে সুস্থ থাকলেও তাঁর মনস্তাত্ত্বিক চিকিৎসার জরুরি প্রয়োজন রয়েছে।
এরপর নিরাপত্তাজনিত কারণে জায়েসকে নাদিয়াল থানায় নিয়ে আসা হয় এবং তাঁর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। খবর পেয়ে পরিজনেরা থানায় ছুটে আসেন। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে এবং পরিবারের সদস্যদের সঠিক পরিচর্যার আশ্বাস নিয়ে জায়েসকে তাঁর স্বজনদের হাতে তুলে দিয়েছে পুলিশ। পুলিশের এই সময়োচিত পদক্ষেপে একটি বড় বিপদ এড়ানো সম্ভব হওয়ায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে পরিবার ও এলাকাবাসী।