শুভেন্দুর কাছে হারের পর এবার চূড়ান্ত পতন? নাম-চিহ্ন হারিয়ে নন্দীগ্রাম থেকে পিছু হটলো মমতা শিবির

নন্দীগ্রামেই সূচনা, নন্দীগ্রামেই পতন? নাম-প্রতীক হারানোর পর প্রার্থী তুলে নিল মমতা শিবির

বাংলার রাজনীতিতে নন্দীগ্রাম এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। ২০০৭ সালের জমি আন্দোলনই তৎকালীন বাম সরকারের পায়ের তলার মাটি কাঁপিয়ে দিয়েছিল এবং ২০১১ সালে মমতার ক্ষমতায় আসার পথ সুগম করেছিল। যে নন্দীগ্রামকে এতদিন নিজের ‘লাকি চার্ম’ বলে মনে করতেন তৃণমূল সুপ্রিমো, ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে সেই নন্দীগ্রামেই এবার তাঁর রাজনৈতিক কেরিয়ারের অন্যতম বড় বিপর্যয় ঘটে গেল।

আসন্ন নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের ঠিক আগেই দলীয় নাম ও প্রতীক জোড়া ফুল বাজেয়াপ্ত হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের। আর সেই তীব্র ধাক্কা সামলাতে না উঠতেই এবার আসনটি থেকে নিজেদের প্রার্থী পদই প্রত্যাহার করে নিলেন মমতা শিবিরের মনোনীত প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে। ফলে ভোটের ময়দানে লড়াই শুরুর আগেই কার্যত ব্যাকফুটে চলে গেল তৃণমূলের একাংশ।

উত্থানের মাটি থেকেই পতনের সূচনা?

একসময় মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর ধীরে ধীরে নন্দীগ্রামের সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশাসনিক দূরত্ব বাড়তে শুরু করেছিল বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দাবি। তবে ২০২১ সালের হাইভোল্টেজ বিধানসভা নির্বাচনের আগে ফের নন্দীগ্রামকেই নিজের পাখির চোখ করেন তিনি। বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানিয়ে এই আসন থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত নেন।

রাজ্যে তৃতীয়বারের জন্য তৃণমূল বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গড়লেও, নন্দীগ্রামে বড়সড় ধাক্কা খেতে হয়েছিল তৃণমূল নেত্রীকে। হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ১,৯৫৬ ভোটে পরাজিত হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

সব হারিয়ে ময়দান ছাড়ল মমতা শিবির

২১-এর সেই হারের ক্ষত এখনও মেেনি, তার মধ্যেই নন্দীগ্রামের উপনির্বাচন ঘিরে তৈরি হলো নতুন জটিলতা। আইনি ও রাজনৈতিক টানাপোড়েনে দলের ঐতিহ্যবাহী নাম ও প্রতীক হাতছাড়া হওয়ার পর এবার প্রার্থী প্রত্যাহার—সব মিলিয়ে এক অভূতপূর্ব পরিস্থিতির মুখে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল। যে মাটি একদিন তাঁকে ক্ষমতার শীর্ষে বসিয়েছিল, সেই নন্দীগ্রামেই আজ নাম, প্রতীক ও প্রার্থী—সব হারিয়ে কার্যত কোণঠাসা তিনি। উপনির্বাচনের ঠিক প্রাক্কালে এই ঘটনা রাজ্য রাজনীতিতে এক নতুন মোড় এনে দিল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *