ভিসিবিলিটি জিরো, ধোঁয়ায় ঢাকল বিজনেস ক্লাসের একাংশ! কেএলএম-এর প্রাক্তন সিইও-র চরম বোকামিতে কোন বিপদ ঘটল মাঝ আকাশে?

আটলান্টিকের ওপর মাঝ আকাশে বিকট বিস্ফোরণ! পাওয়ার ব্যাঙ্ক ফাটায় শ্চিপোল বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ কেএলএম বিমানের

অতল আটলান্টিক মহাসাগরের বুকে তখন মেঘ চিরে উড়ছে প্রকাণ্ড এক বোয়িং ৭৭৭ বিমান। আমস্টারডাম থেকে কুরাকাওগামী কেএলএম (KLM)-এর KL735 নম্বর ফ্লাইটটি প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা ওড়ার পর যাত্রীরা যখন নিশ্চিন্তে ঘুমাচ্ছেন বা নিজেদের মতো সময় কাটাচ্ছেন, ঠিক তখনই বিজনেস ক্লাসে ঘটে গেল এক ভয়ঙ্কর কাণ্ড। বিকট শব্দে বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল বিমানের অভ্যন্তর, আর দেখতে দেখতে পুরো কেবিন ঢেকে গেল ঘন কালো ধোঁয়ায়। হলিউডের কোনো থ্রিলার সিনেমার দৃশ্য নয়, বরং খোদ বিমান সংস্থারই এক চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনতার জেরে বাস্তবায়িত হলো এই ভয়াবহ পরিস্থিতি।

চার্জে বসানো পাওয়ার ব্যাঙ্ক থেকে বিপত্তি

ঘটনাটি ঘটে গত ১৭ সেপ্টেম্বর। আমস্টারডাম থেকে ওড়ার পর বিমানের বিজনেস ক্লাসে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিলেন কেএলএম-এরই প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট এবং সিইও কামিয়েল ইউরলিংস। বিমানের অন্দরমহলের কড়া নিরাপত্তা ও নিয়ম অনুযায়ী, ফ্লাইটের ভিতরে কোনোভাবেই পাওয়ার ব্যাঙ্ক ব্যবহার করা বা তা চার্জে বসানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কিন্তু সেই নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়েই তিনি একটি পাওয়ার ব্যাঙ্ক চার্জে বসিয়েছিলেন বলে অভিযোগ।

আর তাতেই ঘটে চরম বিপত্তি। অতিরিক্ত গরম হয়ে লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারিটি হঠাৎই দাউদাউ করে জ্বলে ওঠে এবং বিকট শব্দে ফেটে যায়। আগুনের তীব্র তাপে জানালার পাশের অংশ ও ভিতরের বিভিন্ন উপাদানে পোড়ার গভীর দাগ তৈরি হয়।

ক্রুদের তৎপরতায় রক্ষা, বাধ্য হয়ে ইউ-টার্ন

হঠাৎ এই বিস্ফোরণ ও ধোঁয়ায় বিমানে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে কেবিন ক্রুরা মুহূর্তের মধ্যে সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে ফায়ার এক্সটিংগুইশারের সাহায্যে দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। সৌভাগ্যবশত বড় কোনো প্রাণহানি না ঘটলেও, একজন সামান্য আহত হন।

পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে পাইলট আর কোনো ঝুঁকি না নিয়ে বিমানটিকে মাঝ আকাশ থেকেই ইউ-টার্ন করিয়ে আমস্টারডামের শ্চিপোল বিমানবন্দরে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা এগিয়ে যাওয়ার পর আবারও সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা পথ পাড়ি দিয়ে বিমানটি ঠিক যেখান থেকে যাত্রা শুরু করেছিল, সেখানেই জরুরি অবতরণ করে। প্রায় ১১ ঘণ্টার নাটকীয় এই বিমানযাত্রার অভিজ্ঞতা নেটপাড়ায় নিমেষেই ভাইরাল হয়ে গেছে। সাধারণ মানুষের একটাই প্রশ্ন— খোদ প্রাক্তন সিইও-র এমন কাণ্ডজ্ঞানহীন ভুলের মাশুল কেন গুনতে হলো গোটা বিমানকে? লিথিয়াম ব্যাটারির সামান্য অসাবধানতা যে আকাশপথে কতটা কালঘাম ছোটানো বিপদ ডেকে আনতে পারে, এই ঘটনা তা আরও একবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *