আইফোনের মারাত্মক সব ত্রুটি নিয়ে আর ছাড় নেই! অ্যাপেলকে সোজা কাঠগড়ায় তুলল সেন্ট্রাল কনজ়িউমার প্রোটেকশন অথরিটি

আইফোন ব্যবহারকারীদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ এবং অসন্তোষের জেরে এবার টেক জায়ান্ট অ্যাপেল ইঙ্ক (Apple Inc.)-এর বিরুদ্ধে সরাসরি কঠোর পদক্ষেপ করল সেন্ট্রাল কনজ়িউমার প্রোটেকশন অথরিটি (CCPA)। আইওএস ১৮ (iOS 18) আপডেট সামনে আসার পর থেকেই ব্যবহারকারীদের একাংশের মধ্যে যে সমস্ত নানাবিধ প্রযুক্তিগত সমস্যা ও ত্রুটি দেখা দিয়েছিল, তার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু করেছে দেশের এই শীর্ষ নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থাটি।
কী নিয়ে শুরু হয়েছে এই তদন্ত?
গত বছর এই টেক জায়ান্ট সংস্থাকে একটি সরকারি নোটিশ পাঠিয়ে প্রযুক্তিগত অভিযোগ, তার সময়সীমা এবং কোম্পানি কী কী প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে, সে বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু এক বছর পেরিয়ে যাওয়ার পরও ব্যবহারকারীদের সেই অভিযোগগুলির সুরাহা না হওয়ায় মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সিসিএআই এই বিষয়টিতে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে পিটিআই সূত্রে জানা গেছে। মূলত অ্যাপেলের সফ্টওয়্যার ওয়ারেন্টি শর্তাবলী এবং অভিযোগ পাওয়ার পর কোম্পানির প্রতিক্রিয়া জানানোর পদ্ধতি নিয়েই এখন জোরদার তদন্ত চালাচ্ছেন নিয়ন্ত্রকরা।
পাশাপাশি, জনপ্রিয় ভোক্তা প্ল্যাটফর্ম ‘লোকালসার্কেলস’ (LocalCircles)-এর একটি সাম্প্রতিক সমীক্ষায় উঠে এসেছে যে, ২০২৫ সালের জানুয়ারির তুলনায় আইফোন ব্যবহারকারীদের ক্ষোভ ও অভিযোগের মাত্রা আরও অনেকটাই বৃদ্ধি পেয়েছে। সংস্থার পক্ষ থেকে এই নতুন সমীক্ষার ফলাফল খুব শীঘ্রই সিসিএআই-এর কাছে আনুষ্ঠানিক তথ্য হিসেবে জমা দেওয়া হবে। সেই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত ডিভাইস ব্যবহারকারীদের জন্য একটি শক্তিশালী ‘ক্লাস-অ্যাকশন’ বা যৌথ আইনি পদক্ষেপের দাবিও তুলেছে ওই ভোক্তা সংগঠনটি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সিসিএআই-এর এই কড়া পদক্ষেপ অ্যাপেলের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাকে গ্রাহক সুরক্ষার বিষয়ে আরও অনেক বেশি দায়িত্বশীল করে তুলবে। তবে যতক্ষণ না পর্যন্ত কোনো কঠোর ও বাধ্যতামূলক সরকারি নির্দেশিকা বা জরিমানা জারি হচ্ছে, ততক্ষণ সাধারণ গ্রাহকরা কতটা স্বস্তি পাবেন, তা পুরোপুরি নির্ভর করছে অ্যাপেলের নিজস্ব সদিচ্ছার ওপরই।