আইনের কোপে পড়ে বড় পদক্ষেপ টেক জায়ান্টের! এবার থেকে সরকারের হাতে সরাসরি রিপোর্ট জমা দেবে মেটা

ভারতের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা আরও বেশি জোরদার করতে এক বড় ও তাৎপর্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিল মেটা (Meta)। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম এবং হোয়াটসঅ্যাপের মতো জনপ্রিয় সোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলির মালিকানাধীন এই সংস্থাটি এবার থেকে চাইল্ড সেক্সুয়াল অ্যাবিউজ (Child Sexual Abuse) এবং শিশুদের সুরক্ষা সংক্রান্ত অন্যান্য ঘটনার বিশদ বিবরণ সরাসরি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে রিপোর্ট করতে সম্মত হয়েছে। ক্ষতিকর ডিজিটাল কন্টেন্ট নিয়ন্ত্রণে ভারত সরকারের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পরেই মেটার পক্ষ থেকে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে।
CSEAM রুখতে কঠোর অবস্থান কেন্দ্রের
সরকারি সূত্রের খবর অনুযায়ী, ভারতে চাইল্ড সেক্সুয়াল এক্সপ্লয়টেটিভ অ্যান্ড অ্যাবিউজ মেটেরিয়াল (CSEAM) পুরোপুরি বন্ধ করার ক্ষেত্রে মেটার এই সিদ্ধান্ত একটি অত্যন্ত মাইলফলক পদক্ষেপ। ন্যাশনাল ক্রাইম রিপোর্টিং পোর্টাল অনুসারে, CSEAM বলতে এমন সমস্ত কন্টেন্টকে বোঝায়, যেখানে নির্যাতন বা যৌন শোষণের শিকার কোনো শিশুর আপত্তিকর ছবি কোনো ডিজিটাল মাধ্যমে প্রকাশিত হয়। ইনফরমেশন টেকনোলজি অ্যাক্টের ৬৭(বি) ধারা অনুযায়ী, ডিজিটাল ফর্মে শিশুদের যৌন নির্যাতনের ছবি বা কন্টেন্ট প্রকাশ করা একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
কেন্দ্রীয় সরকারের স্পষ্ট বার্তা, ভারতে কাজ করা যে কোনো সোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের ক্ষেত্রে অনলাইন শিশু সুরক্ষা একটি ‘মৌলিক নীতি’ এবং এটি সম্পূর্ণ ‘আপোসযোগ্য নয়’। শিশুদের এই ধরনের ক্ষতিকর ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে সুরক্ষিত রাখতে প্ল্যাটফর্মগুলিকে এখন থেকে অনেক বেশি সক্রিয় হতে হবে। যে সমস্ত সোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়েও আগে থেকেই সতর্ক করেছে সরকার।
কেন এই সিদ্ধান্ত নিল মেটা?
সাম্প্রতিক সময়ে ইন্টারনেট দুনিয়ায় ক্ষতিকর এবং অবৈধ অনলাইন কন্টেন্ট নিয়ে সোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলির উপর নজরদারি অনেকটাই বাড়িয়ে দিয়েছে কেন্দ্র। এর মধ্যে চাইল্ড সেক্সুয়াল অ্যাবিউজ মেটেরিয়াল এবং ডিপফেক-এর মতো মারাত্মক বিষয়গুলিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই ধরনের বেআইনি কন্টেন্ট কীভাবে হ্যান্ডেল করা হচ্ছে, তা নিয়ে এর আগে মেটাকে সরকারি নোটিশও পাঠানো হয়েছিল এবং মেটার গ্লোবাল এক্সিকিউটিভদের ভারতে তলব করা হয়েছিল।
ক্ষতিকর কন্টেন্ট দ্রুত ডিলিট করা, আরও শক্তিশালী সেফগার্ডস বা সুরক্ষা বলয় তৈরি করা এবং প্ল্যাটফর্মের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য সমস্ত সোশাল মিডিয়ার উপর চাপ ক্রমেই বাড়াচ্ছিল কেন্দ্র। এমনকি ভারতের প্রচলিত আইন না মানলে তা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না বলেও সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল। ফলস্বরূপ, মেটার এই সিদ্ধান্তকে শিশুদের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নিরাপদ করে তোলার পথে একটি প্রাথমিক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হলেও, সরকারের মতে এই লড়াইয়ে আরও অনেক দীর্ঘ পথ চলা বাকি রয়েছে। দেশের অন্যান্য সোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলির উপরেও যাতে দ্রুত কড়া নজরদারি চালিয়ে এই ধরনের ক্ষতিকর কন্টেন্ট চিরতরে নির্মূল করা যায়, সেই বিষয়েও তৎপর রয়েছে প্রশাসন।