নির্বাচনের আগেই ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বড় ধাক্কা! মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের রায়ে উলটপুরাণ, আসল কারণ কী?

আমেরিকার মিডটার্ম নির্বাচনের ঠিক প্রাক্কালে বড়সড় আইনি ধাক্কার মুখে পড়ল ট্রাম্প প্রশাসন। প্রচলিত মেল-ইন ভোটিং বা ডাকযোগে ভোটদান প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে বেশ কিছু নতুন ও কড়া বিধিনিষেধ জারি করেছিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে শেষরক্ষা হলো না; মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট তাঁর সেই সমস্ত প্রস্তাবিত কড়া বিধি পুরোপুরি খারিজ করে দিয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) সূত্রে জানা গেছে, দেশের শীর্ষ আদালত সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে মার্কিন রাজ্যগুলি তাদের প্রচলিত নিয়ম মেনেই ডাকযোগে ব্যালটে ভোট গ্রহণ করতে পারবে।

ঠিক কী ছিল ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাব?

ট্রাম্প প্রশাসনের তরফ থেকে নতুন নিয়মে বলা হয়েছিল, সমস্ত রাজ্যকে ডাক ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার জন্য একটি নির্দিষ্ট খাম ব্যবহার করতে হবে। পাশাপাশি, অনলাইন পোর্টালে যোগ্য ভোটারদের একটি তালিকা জমা দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল। এমনকি নিয়মের সামান্য হেরফের হলে ডাক বিভাগ (USPS) ব্যালট সরবরাহে অসম্মতি জানাতে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়েছিল।

তবে নির্বাচন কর্মকর্তাদের মতে, ভোটের মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে এত বড় এবং জটিল পরিবর্তন আনা বাস্তবে অসম্ভব ছিল। এছাড়া অনলাইন পোর্টালে বারকোডের সামান্য ভুলের কারণে লক্ষ লক্ষ বৈধ ব্যালট বাতিল হয়ে যাওয়ার বড়সড় ঝুঁকিও তৈরি হয়েছিল। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি ছিল যে, ভোটের স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা বজায় রাখতেই এই প্রস্তাব আনা হয়েছে। কিন্তু ডেমোক্র্যাটিক সদস্য ও বিভিন্ন ভোটাধিকার রক্ষা সংস্থা এর তীব্র প্রতিবাদ জানায়। ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রতি ১ কোটি মেল ব্যালটের মধ্যে মাত্র ৪টি জালিয়াতির ঘটনা ঘটে, যা ডাক ব্যালটে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগকে কার্যত ভিত্তিহীন প্রমাণ করে।

সুপ্রিম কোর্টের রায়ে স্বস্তিতে বিভিন্ন রাজ্য

ইতিমধ্যেই আমেরিকায় ভোটপর্ব শুরু হয়ে গেছে, যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ভোটই সংগৃহীত হয় ডাকযোগের মাধ্যমে। নির্বাচনের ঠিক আগে সুপ্রিম কোর্টের এই রায়কে ট্রাম্পের একটি বড় আইনি পরাজয় হিসেবেই দেখছেন আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা। যদিও শীর্ষ আদালতের এই আদেশের বিশদ আইনি ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি এবং বিচারপতি ব্রেট ক্যাভানো ইঙ্গিত দিয়েছেন যে বর্তমান নির্বাচনের জন্য এই নির্দেশ বহাল থাকলেও ভবিষ্যতে বিষয়টি নিয়ে ফের পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে। তবে আপাতত সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের ফলে পূর্বের নিয়মেই নির্বাচন পরিচালিত হওয়ায় বিভিন্ন রাজ্যের প্রশাসনিক কর্তারা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *