পেঁয়াজ নয়, এবার পকেট ফাঁকা করছে মোবাইল রিচার্জ আর মেমোরি চিপ! মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে ভয়ঙ্কর তথ্য দিল HDFC

খাদ্যপণ্যের পাশাপাশি এবার দেশের মুদ্রাস্ফীতি বা মূল্যবৃদ্ধির চাকা ঘোরানোর পেছনে বড় ভূমিকা নিচ্ছে মোবাইল ট্যারিফ এবং ইলেকট্রনিক্স পণ্যের ক্রমবর্ধমান খরচ। এইচডিএফসি ব্যাংক (HDFC Bank)-এর সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নতুন অর্থনৈতিক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। সেখানে জানানো হয়েছে যে, প্রয়োজনীয় ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী ও মেমোরি চিপের দাম বাড়ার প্রভাব সরাসরি গিয়ে পড়ছে সাধারণ গ্রাহকদের পকেটে।

তথ্য ও যোগাযোগের খাতে বড় ধাক্কা

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত আগস্ট মাসে তথ্য ও যোগাযোগ (Information and Communication) ক্ষেত্রে মুদ্রাস্ফীতির হার এক লাফে ১.৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। মোবাইল ফোনের রিচার্জ বা ট্যারিফ বৃদ্ধির পাশাপাশি মোবাইল ফোন, কম্পিউটার এবং হার্ড ডিস্কের মতো বিভিন্ন ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতির দাম বেড়ে যাওয়াই এর মূল কারণ। বৈশ্বিক বাজারে মেমোরি চিপের দাম বেড়ে যাওয়া এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI প্রযুক্তির রমরমার কারণে বিশ্বজুড়ে সেমিকন্ডাক্টর ও মেমোরি চিপের চাহিদাও হু হু করে বাড়ছে। যার জেরে সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ গ্রাহকদের কেনাকাটার খরচের ওপর।

এইচডিএফসি ব্যাংকের প্রিন্সিপাল ইকোনমিস্ট সাক্ষী গুপ্ত এবং সিনিয়র ইকোনমিস্ট দীপ্তি ম্যাথিউর তৈরি করা ওই প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, ভারতের মূল মূল্যস্ফীতি বা কোর ইনফ্লেশন (Core Inflation) জুলাই মাসের ৩.৯ শতাংশ থেকে বেড়ে আগস্ট মাসে ৪.২ শতাংশে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। রেস্তোরাঁ, আবাসন, গৃহস্থালির সরঞ্জাম এবং ব্যক্তিগত পরিচর্যা—সব ক্ষেত্রেই মানুষের খরচ লাগাতার বেড়েই চলেছে।

রিজার্ভ ব্যাংক ও আগামী দিনের পূর্বাভাস

একদিকে যখন বিশ্বজুড়ে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং অপরিশোধিত তেল ও পণ্যের দাম ওঠানামা করছে, তখন ভারতের অর্থনৈতিক বৃদ্ধি নিয়ে ইতিবাচক আশার কথা শুনিয়েছেন মুখ্য অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ভি অনন্ত নাগেশ্বরন। তবে এইচডিএফসি ব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কোয়ার্টারগুলিতে ভারতের খুচরা মুদ্রাস্ফীতি বা CPI ইনফ্লেশন কিছুটা উচ্চমুখী থাকতেই পারে। চলতি অর্থবর্ষে হেডলাইন ইনফ্লেশন ৫.১ শতাংশের আশপাশে থাকতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে আগামী অক্টোবর মাসে রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া (RBI) সুদের হার কমানোর পরিবর্তে সুদের হার সংক্রান্ত বিষয়ে ‘ওয়াইট অ্যান্ড ওয়াচ’ নীতি বজায় রাখতে পারে বলেই মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *