টানা দুই মাসের ভয়াবহ সংকট শেষ! অবশেষে কি স্বাভাবিক হতে চলেছে গ্যাস ও বিদ্যুতের সরবরাহ?

ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে যান্ত্রিক ত্রুটি এবং অগ্নিকাণ্ডের জেরে বাংলাদেশে তৈরি হওয়া তীব্র গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট দীর্ঘ দুই মাস ধরে সাধারণ মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। সম্প্রতি শিল্প মালিকদের সঙ্গে বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কারখানায় গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ মঙ্গলবার রাত থেকেই অনেকটাই স্বাভাবিক হওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। তবে এই বার্তার পরেই সাধারণ গৃহস্থালি ও আবাসিক গ্রাহকদের মনে প্রশ্ন জেগেছে— কবে কাটবে তাঁদের ঘরের লোডশেডিং এবং গ্যাসের টানাপোড়েন?
গ্যাস সরবরাহে কিছুটা স্বস্তি
পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, গত জুলাইয়ের শেষের দিকে মহেশখালীর টার্মিনালে বিপত্তির পর সরবরাহ নেমে গিয়েছিল ২৩৬ কোটি ঘনফুটে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে উচ্চ মূল্যে এলএনজি আমদানি বাড়ানোর ফলে এবং নতুন কার্গো যুক্ত হওয়ায় বর্তমানে গ্যাস সরবরাহ বেড়ে ২৬১ কোটি ঘনফুটে দাঁড়িয়েছে। যদিও দেশের মোট ৩৮০ কোটি ঘনফুটের চাহিদার তুলনায় এটি এখনও বেশ কম, তবুও পরিস্থিতি ধীরে ধীরে আগের অবস্থায় ফিরে আসছে বলে জানিয়েছে জ্বালানি বিভাগ।
বিদ্যুৎ সংকট কি পুরোপুরি কাটবে?
গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে পর্যাপ্ত জ্বালানি না পাওয়ায় দেশজুড়ে প্রতিদিন আড়াই হাজার থেকে সাড়ে তিন হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত লোডশেডিংয়ের মুখে পড়তে হয়েছে সাধারণ মানুষকে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ও সংশ্লিষ্ট প্রতিমন্ত্রীর দাবি, গ্যাস সরবরাহ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতেও উৎপাদন কিছুটা বাড়তে শুরু করেছে। তবে একসঙ্গে রাতারাতি পুরো পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন না হলেও, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে লোডশেডিংয়ের মাত্রা কমে আসবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।